নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও খুলনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সাইফুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন এই শীর্ষ প্রকৌশলী।
জানা গেছে, সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন, ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রকৌশলী সাইফুর রহমান দাবি করেছেন, প্রচারিত তথ্যের অধিকাংশই বাস্তবতার পরিপন্থী এবং তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর সঙ্গে আলাপকালে সাইফুর রহমান বলেন, “আমি অপপ্রচারের শিকার। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে সত্য তথ্য প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।”
সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যে বাড়ি ও মার্কেটের কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। উল্লিখিত মার্কেট ও বাড়িগুলো তার পৈত্রিক সম্পত্তি এবং তা এজমালি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড়ের সোনারতরী পার্ক ও কাঠবাদাম রেস্টুরেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাঠবাদাম রেস্টুরেন্টসহ যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, সেটি আমার নয়। সোনারতরী পার্কে আমার কিছু জায়গা আছে, যা আমি ভাড়া দিয়েছি।”
সরেজমিনে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি লোক পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখুন। যা সত্য, সেটিই লিখুন।”
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাইফুর রহমানের মতে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির কাগজপত্র, মালিকানা, আয়-ব্যয়ের উৎসসহ অন্যান্য নথিপত্র যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ প্রকাশের পক্ষেও মত দেন তিনি।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত হলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :