সাতক্ষীরায় সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত শুরু


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

সাতক্ষীরায় সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত শুরু
____________________________


সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে আগামীকাল বুধবার (১৯ নভেম্বর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিশেষ টিম সাতক্ষীরায় আসছে। অন্যদিকে তদন্তে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন রোকনুজ্জামান।

বন্ধ থাকা এতিমখানার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের শাল্যে গ্রামে অবস্থিত ‘আবু জাফর সিদ্দিকীয়া এতিমখানা’ (রেজি. নং ২৮০/৯৯) ২০০৮ সালের পর থেকে কার্যক্রমহীন হলেও, রোকনুজ্জামান উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হিসেবে যোগদানের (১৩ অক্টোবর ২০১১) পর শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী কবির হোসেনসহ একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, সাতক্ষীরা শাখা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন।

২০১৭ সালের পূর্বের ক্যাপিটেশন অনুদানের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে—এই রেকর্ড তিনি গায়েব করেছেন। তবে ২০১৭–২০১৮ ও ২০১৮–২০১৯ অর্থবছরের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এভাবে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অস্তিত্বহীন এতিমখানার নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অবৈধ গরু বাণিজ্য ও টাকার লেনদেন

অভিযোগে বলা হয়, ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা গরুর বিপরীতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করা হতো। এর একটি অংশ পাঠানো হতো তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের এপিএস তৌহিদুজ্জামানের কাছে, যিনি রোকনুজ্জামানের আপন মামা। তার প্রভাবে রোকনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

১৮ বছর ধরে একই জেলায় চাকরি

সরকারি বিধি অনুযায়ী একই জেলায় তিন বছরের বেশি কর্মরত থাকা নিষিদ্ধ থাকলেও রোকনুজ্জামান ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৮ বছর ধরে সাতক্ষীরাতেই বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।

এ সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ, পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট, বদলির আদেশ—সবই কোনোভাবে বাতিল বা থেমে গেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা

অভিযোগে বলা হয়—

সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজ মোড় সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে ৮ কাঠার ওপর সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন

আয়কর ফাঁকি দিতে ভবনের মালিকানা দেখানো হয়েছে তার দুই ভাইয়ের নামে

সম্প্রতি প্রায় ১ কোটি টাকা দিয়ে আরও ৫ শতক জমি কিনেছেন

বিভিন্ন রেজিস্ট্রি দলিল (২০১৭ সালের ৩৫৪৮, ২০২০ সালের ৪৫৫৬, ৫৯৩৮, ৫৯৩৯, ২০২২ সালের ৩৬৬০ ও ১১৫৫২) এর মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে

স্বনামে–বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়

স্থানীয়দের দাবি—৬ষ্ঠ গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এ ধরনের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাকে সাতক্ষীরায় রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যাচমেটকে আশাশুনি থেকে বদলি করে সাতক্ষীরার উপপরিচালক পদে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যাতে পূর্বের অনিয়ম গোপন থাকে।

অভিযুক্তের ফোন বন্ধ

এসব বিষয়ে জানতে সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামানের মোবাইলে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের বক্তব্য

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান মৃধা বলেন—
“যথা নিয়মেই তদন্ত সম্পন্ন হবে।”


হাফিজুর রহমান, 
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ