নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী অবস্থানে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম সংসদ পেলো এত শক্তিশালী বিরোধী দল। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং এনসিপি ৬টি আসনে জয়লাভ করে নিজেদের জনসমর্থনের প্রমাণ দিয়েছে। একাত্তর-পরবর্তী সময়ে এমন তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে এই জোট যদি জনগণের কল্যাণে সঠিক ও সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে যেতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এই শক্তির পালাবদল অবধারিত—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং রাষ্ট্রক্ষমতার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার সমীকরণেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিপদ। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্তকারী মহল ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে নস্যাৎ করতে নানামুখী ফাঁদ পেতেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, উদীয়মান এই রাজনৈতিক শক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রথম ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাতক্ষীরা অঞ্চলকে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। দলীয় ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং আদর্শিক অবস্থান বিবেচনায় তাকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও বিচার দাবি করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিগুলো বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন, দুর্বলতা এবং তাদের চারপাশের লোকজন—যেমন ড্রাইভার, পিএস, ঘরের কর্মী বা আত্মীয়-স্বজনদের সম্পর্কে সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। উপযুক্ত সময়ে সেই তথ্য ও ফাঁদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিতর্কিত ও ধ্বংস করার পুরোনো কূটকৌশল পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে। এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারোয়ার তুষারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিকল্পিত মানহানিকর ফাঁদ পাতার চেষ্টা দেখা গিয়েছিল।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও ‘জুলাই যোদ্ধা’রা দীর্ঘ সংগ্রাম ও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। নিজেদের ত্যাগ ও অর্জনের ওপর এই অতি আত্মবিশ্বাসই অনেক সময় তাদের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। ষড়যন্ত্রের বহুমুখী জাল সম্পর্কে অসচেতনতা এবং উদাসীনতা প্রতিপক্ষকে সহজেই আক্রমণ করার সুযোগ করে দেয়।
এনসিপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই বিপদ উপলব্ধি করে দ্রুত কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:
গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীকে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। অন্যথায় সামান্য ভুল ও আত্মতুষ্টির খেসারত দিতে হতে পারে পুরো জাতিকে।
আপনার মতামত লিখুন :