সুনামগঞ্জে প্রাইভেট ক্লিনিক উদ্বোধনে সিভিল সার্জন, স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

সুনামগঞ্জে প্রাইভেট ক্লিনিক উদ্বোধনে সিভিল সার্জন, স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ
__________________________________


সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ায় ‘মা ও শিশু হাসপাতাল’ নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন ওই ক্লিনিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্বার্থসংঘাত (conflict of interest) ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকাল ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল কালাম, ডা. আলী আশরাফ সোহাগ, মেডিকেল অফিসার ডা. নিলুফার ইয়াসমিন ও অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ রুবি আক্তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধন হওয়া ক্লিনিকটির মালিকানার সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল কালামের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এতে সরকারি চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সিভিল সার্জনের প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক  সেন্টার এর মালিক বলেন,
“সিভিল সার্জন জেলার সব বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদান ও তদারকির দায়িত্বে থাকেন। এমন একজন কর্মকর্তা যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হন, তাহলে অন্যদের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।”

অনেকের মতে, একজন সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. জসিম উদ্দিন জেলার স্বাস্থ্যসেবার সর্বোচ্চ তদারকি কর্তৃপক্ষ। তার এই পদ থেকে কোনো নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বা প্রকাশ্য অংশগ্রহণ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং স্বার্থসংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সুবিধা প্রদান বা পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রক সহকারী পরিচালক নুরে আলম শামীম এর মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য তাৎক্ষণিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি তেমনি সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক আরও বাড়তে পারে এবং জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।


একদিকে নতুন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা, অন্যদিকে সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার ভূমিকা—সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যাখ্যার অপেক্ষায়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ