বেঙ্গলি জার্নাল বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে কি তবে ছিল বিদেশি কোনো সুপরিকল্পিত ছক? শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ওয়াশিংটন কি সরাসরি বিপুল অংকের অর্থ ঢেলেছিল? মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'সিএসবি নিউজ ইউএসএ' (CSB News USA)-এর এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩২৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকারও বেশি) ব্যয় করেছে।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— “দ্য পেপার ট্রেইল: হাউ ওয়াশিংটন স্পেন্ট ওভার ৩২৫ মিলিয়ন ডিসম্যান্টলিং বাংলাদেশ’স ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট”।
সিএসবি নিউজের দাবি, এই প্রতিবেদন কোনো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তারা তথ্যের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছে:
প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নথিপত্রের এই ‘কাগজে প্রমাণ’ (Paper Trail) কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল অংকের অর্থ সরাসরি নয়, বরং অত্যন্ত কৌশলী বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। অর্থ ব্যয়ের প্রধান তিনটি খাত ছিল:
১. এনজিও ও নাগরিক সমাজ: বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি সংস্থা এবং সিভিল সোসাইটি গ্রুপকে।
২. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ক্যাম্পেইন: ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অর্থ প্রবাহের গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ান তৈরি এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য এই অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে।
৩. সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি: ‘গণতন্ত্রায়ন’ বা ‘মানবাধিকার’ রক্ষার দোহাই দিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এই অর্থ ঢালা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যখন ২০২৪-এর আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে ‘জেনারেশন জেড’-এর স্বতঃস্ফূর্ত ‘গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, সিএসবি নিউজ সেখানে ভিন্ন এক ভয়াবহ আখ্যান তুলে ধরেছে।
"এটি কেবল একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী এবং সুপরিকল্পিতভাবে অর্থায়ন করা একটি সুনির্দিষ্ট প্রজেক্ট।" — সিএসবি নিউজ
প্রতিবেদনে সরাসরি দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই বিপুল বিনিয়োগ সরাসরি তৎকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত বিপ্লবের নেপথ্যে বিদেশি বিনিয়োগের এই তথ্য জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা বাংলাদেশের বর্তমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই নথিপত্র যদি সত্য হয়, তবে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নগ্ন হস্তক্ষেপের এক বড় প্রমাণ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বিদেশি অর্থের মাধ্যমে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতকে প্রভাবিত করে সরকার পরিবর্তন সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রবল জনরোষের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। সেই ঘটনার দীর্ঘ সময় পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই নথিপত্রভিত্তিক তথ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।
আপনার মতামত লিখুন :