রাজশাহীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দাবি
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ নিয়ম না মেনে কার্পেটিং করায় রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এক সাংবাদিক হুমকি ও ভয়ভীতির মুখে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজের দায়িত্ব পায় “এসকে ট্রেডিং” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পিচের সঙ্গে পোড়া মবিল মেশানো হচ্ছে এবং রাস্তার ধুলা পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নতুন কার্পেটিং দ্রুত উঠে গিয়ে সড়ক আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রকৌশলী অরিফুজ্জামান সোহেল বলেন, “ডাস্ট পরিষ্কার না করে কার্পেটিং শুরু করা প্রকৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আগে রাস্তা পরিষ্কার করে পরে কার্পেটিং করা উচিত।”
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “এসকে ট্রেডিং”-এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কাজের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে রাস্তার মান ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পেরে একপর্যায়ে ঠিকাদার হুমকিমূলক আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :