ধর্মপাশার সুখাইড় বাজারে প্রশাসনের সহায়তায় বেদখল জমি ফিরে পেলেন অভিজিৎ সরকার
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
কুলেন্দু শেখর দাস,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় বাজারে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর আওতায় প্রশাসনের সহায়তায় দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা ২১ শতক জমি ফিরে পেয়েছেন অভিজিৎ সরকার।
শুক্রবার (২৬ জুন) ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার রুহুল আমীন, পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে মাপজোক করা হয়। পরে অবৈধভাবে নির্মিত টিনশেড দোকানঘর উচ্ছেদ করে আবেদনকারীকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র সরকারের ছেলে অভিজিৎ সরকার ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দুটি পৃথক সাফ কবালা দলিলের মাধ্যমে সুখাইড় বাজারে মোট ২১ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি জমির নামজারি সম্পন্ন করে সরকারি খাজনা পরিশোধসহ বৈধভাবে ভোগদখলে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বছরের ২৩ অক্টোবর কয়েকজন ব্যক্তি রাতারাতি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখল নেন। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিস হলেও দখলদাররা জমি ছাড়েননি। পরে জমির মালিক থানায় মামলা দায়ের করেন এবং তাঁর শ্বশুর দীপু তালুকদারের মাধ্যমে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমির) কাছে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর আওতায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর প্রশাসন অভিযুক্তদের একাধিকবার নোটিশ দেয়। পরবর্তীতে শুক্রবার অভিযান পরিচালনা করে দখলদারদের উচ্ছেদ করে ১৮ শতক জমি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট প্রায় আড়াই শতক জমিতে মালামাল থাকায় দখলকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী দীপু তালুকদার বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের উদ্যোগে বাকি জমিটিও এক সপ্তাহের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি।”
ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দখলকারীদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। পরে সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অংশে মালামাল থাকায় এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর সেটিও মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ ভূমি জালিয়াতি, অবৈধ দখল ও প্রতারণা প্রতিরোধে প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়। এ আইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :