বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফয়সালের প্রতিবাদ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মোহাম্মদ সেলিম সাজ্জাদ
স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ শহরের কোতোয়ালী থানাধীন চর ঈশ্বরদিয়া শিমুলতলি মোড় এলাকার এক সাধারণ নাগরিক ফয়সাল মিয়া অভিযোগ করেছেন, একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পরেও শান্ত হয়নি প্রতিপক্ষ। বরং, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ করে চলেছে।
ফয়সাল মিয়া বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেলেও, অভিযোগ করেছেন যে, জামিনে মুক্তির পর থেকে ওসি’র নির্দেশে এসআই (নিঃ) মো. কামরুল হাসান ও এসআই রিপন চন্দ্র সরকার তাকে বারবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের যোগসাজশে মিথ্যা অভিযোগ তদন্ত না করেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মিথ্যা অভিযোগ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন!
ফয়সাল মিয়া বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি—জামিনে মুক্তির পর বাদীপক্ষের সঙ্গে আমার কোনো দেখা বা কথা হয়নি। তাহলে হুমকির প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ নেই। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবুও পুলিশ কর্মকর্তারা মনগড়া প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়েছেন—এতে কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলেই কি সাধারণ মানুষকে এমন ভোগান্তিতে ফেলতে হবে?”
পূর্ব বিরোধ থেকেই শত্রুতা?
তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন তার প্রতি হিংস্র হয়ে উঠলেন, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ফয়সাল অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসা ও জনস্বার্থে প্রতিবাদ করায় অফিসার কামরুলের সঙ্গে পূর্বে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংবাদপত্রে লেখালেখির জের ধরেই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিহিংসা জন্ম নেয়।
পরবর্তীতে এসআই রিপন চন্দ্র সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে মিথ্যা অভিযোগ গঠন করে তদন্ত ছাড়াই রিপোর্ট পাঠানো হয় আদালতে
“আইনের শাসনে আমার আস্থা আছে”—ফয়সালের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য
ফয়সাল মিয়া আরও বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা যদি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে, তবে নিরপরাধ মানুষের জীবনে বিভীষিকা নেমে আসে। আদালতে আমি প্রমাণ দেব, আমি হুমকি দেইনি বরং সেই সময় আমি চিকিৎসকের শরণাপন্ন ছিলাম—প্রমাণসহ। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র।”
তিনি বলেন, “যদি আমি অপরাধী হই, আদালত বিচার করবে। কিন্তু আমি যদি নির্দোষ হই, তাহলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার হওয়া উচিত। আমি পুলিশের ওপর এখনো বিশ্বাস রাখি।”
তথ্যপ্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদন
প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনে (এসআই রিপন চন্দ্র সরকার স্বাক্ষরিত) উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৭ ফেব্রুয়ারি কিছু অভিযোগের আংশিক মিল পাওয়া গেলেও, ১০ মে তারিখে হুমকির কোনো প্রমাণ মেলেনি। বাদীপক্ষ কোনো নির্ভরযোগ্য কপি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
অন্যদিকে, ফয়সাল দাবি করেছেন যে ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ছিলেন—এ বিষয়ক কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।
এছাড়া, মডেল থানায় করা একটি জিডি (নং-১৯২২, তারিখ-১৮/০২/২০২৫) এর ভিত্তিতে তদন্ত শেষে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬০/২৫, তারিখ-০৮/০৩/২০২৫ এর মাধ্যমে মামলা করা হয়, যার নন-জিআর মামলা নং-৪৬/২৫। এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ফয়সালকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের আদেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
১২ মে ২০২৫ তারিখে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। আসামী পক্ষ সময় চেয়ে দরখাস্ত করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষ ফয়সালের জামিন বাতিলের আবেদন জানালে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন।
ফয়সাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হুমকি বা গালিগালাজের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র। এসব তথ্য আদালতে উপস্থাপন করবো।”
মানহানি মামলার প্রস্তুতি ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
ফয়সাল জানিয়েছেন, তিনি ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই হবে। আমি বিশ্বাস করি, বিচার হবে এবং সত্যের জয় হবেই।”
আপনার মতামত লিখুন :