নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর সুমন চন্দ্রের বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন প্রদানে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টাকা ছাড়া ফাইল না ছাড়া এবং ভুক্তভোগীদের নানা অজুহাতে হয়রানি করার পাশাপাশি এবার অন্যের এলাকা বা ভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে এনে সিল-স্বक्षर জালিয়াতির মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর সুমন চন্দ্র নিয়মিত অফিসে আসেন দুপুর ১২টার দিকে। অফিসে পৌঁছানোর পর থেকেই সাধারণ সেবা প্রার্থীদের বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধনের মতো অতি জরুরি সেবা নিতে গেলে বড় অংকের ঘুষ দাবি করেন তিনি। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে পরবর্তীতে "সার্ভার নেই" বা "নেটওয়ার্ক কাজ করছে না" বলে সেবা প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ একই সময়ে টাকা প্রদানকারীদের কাজ ঠিকই দ্রুত সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই দুর্নীতির ভয়াবহ রূপ প্রকাশ পেয়েছে জলি আক্তার নামের এক ভুক্তভোগীর ঘটনায়। জানা যায়, ভুক্তভোগী জলি আক্তারের জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। আইনগতভাবে দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদেরই সেখানে জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রার করার কথা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিল-স্বাক্ষর থাকার কথা।
কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়কর ও রহস্যজনক বিষয় হলো—মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিবন্ধিত হওয়া সত্ত্বেও সেই সনদে অর্থের বিনিময়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে! প্রশ্ন উঠেছে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একটি ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধনে কীভাবে অন্য উপজেলার (গোলাপগঞ্জ) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সিল ও স্বাক্ষর যুক্ত হলো? স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি সাধারণ কোনো অনিয়ম নয়, বরং এটি স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক এখতিয়ার লঙ্ঘন এবং গুরুতর জালিয়াতির শামিল।
দায়িত্বরত একজন সরকারি কর্মচারীর এমন দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সুমন চন্দ্রের অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একইসঙ্গে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অবৈধ লেনদেন এবং সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :