অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যত অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ



জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৮ মার্চ তিনি উপাধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে যোগ দেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ৫ অক্টোবর পূর্ণ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বই ক্রয়, কেন্দ্র ফি, ফার্নিচার কেনাসহ নানা খাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, লাইব্রেরির বই কেনার নামে বিপুল অঙ্কের টাকা দেখানো হলেও বাস্তবে বই কেনা হয়নি। ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। এতে আপত্তি করায় লাইব্রেরি কর্মচারী মোছা. আবেদা সুলতানাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এছাড়া কলেজে অনলাইন পেমেন্ট চালু থাকার পরও ছাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করা হয়েছে— যা কোনো ব্যাংকে জমা না করে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিজ্ঞান ভবনের ডরমেটরি নিজ দখলে নিয়ে সেখানে বিশ্রামাগার তৈরি করেছেন অধ্যক্ষ।

ছাত্রীদের পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বোরখা পরিধানে নিষেধাজ্ঞা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি হুমকির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সামান্য ছুটি চাইলেও অধ্যক্ষ অনুমোদন দেন না, উল্টো শোকজ নোটিশ দেন। তার আচরণে অনেকে বদলির আবেদন করেছেন। কলেজের পুকুর ও গাছ বিক্রির টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

অন্যদিকে, সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান ছাত্রীদের অভিযোগ— প্রশংসাপত্র, সার্টিফিকেট, মনোগ্রামসহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। এমনকি হোস্টেলের ফ্রিজ পর্যন্ত অধ্যক্ষ নিজে ব্যবহার করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কলেজে কোনো অবৈধ টাকা আদায় করা হয় না। অফিস স্টাফরা প্রশংসাপত্রের জন্য সামান্য ফি নেয়, যা মাষ্টাররোলে তাদের দেওয়া হয়। শিক্ষকদের কাউকে হয়রানি করা হয়নি। যাদের নোটিশ করা হয়েছে, তা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায়।”

তিনি আরও বলেন, “লাইব্রেরিতে বই কেনার অর্থ থেকে কিছু টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে কলেজের প্রয়োজনেই। শিক্ষকরা আমাকে সহযোগিতা করেন না, আমি কলেজের উন্নতি চাই।”


মোঃ নেওয়াজ মোর্শেদ নোমান, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ