জামালগঞ্জে প্রবাসী যুবকের লিঙ্গ কর্তনের ভয়াবহতা বিচারের দাবিতে আদালতে ভুক্তভোগীর ভাই
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
ছাদিকুর রহমান স্বাধীন খাঁন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের ছদ্মাবরণে প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ এবং ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী যুবক। তার লিঙ্গ কেটে ফেলা হয় পরিকল্পিতভাবে।
এই বর্বর ঘটনার বিচার চেয়ে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা নং-১৬৬/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে।
প্রেমের নামে প্রতারণা: সাত বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী যুবক
মামলার বাদী মোঃ জসিম উদ্দিন (৪৫), গ্রাম- মঙ্গলপুর ডাউকেরকাড়া, থানা- দোয়ারাবাজার। তিনি জানান, তার ছোট ভাই বুরহান উদ্দিন (৩৫) প্রায় ৭ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রাখছিলেন নিগার সুলতানা নামে এক তরুণীর সঙ্গে। প্রবাসে অবস্থানকালে ভাই বিভিন্ন সময়ে ৭,৭৪,০০০ টাকা পাঠান নিগারের কাছে। দেশে ফিরে বিয়ের প্রস্তাব দিলে নিগার তা এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে জানা যায়, নিগার সুলতানা জামালগঞ্জ ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর-এর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত।
ডেকে এনে ঘুমের ওষুধে অচেতন করে ভয়াল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
১৩ মে ২০২৫ তারিখে নিগার ও হুমায়ুন কবীর কৌশলে বুরহান উদ্দিনকে জামালগঞ্জ নতুনপাড়ায় নিগারের বাসায় আসতে বলেন।
তিনি আসলে তাকে চায়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। অচেতন হওয়ার পর হাত-পা বেঁধে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার লিঙ্গ কেটে দেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি ঘরের ভিতর তালাবদ্ধ করে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
অভিযুক্তদের নাম ও পরিচয়
মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজন: ১. নিগার সুলতানা (২৭), মোল্লাপাড়া, সদর থানা, সুনামগঞ্জ
২. হুমায়ুন কবীর (৫০), ম্যানেজার, ব্র্যাক ব্যাংক, জামালগঞ্জ
৩. ফাহাদ আহমদ (২২), মোল্লাপাড়া, সদর
৪. মনছুর আহমদ (২৮), মানিগাঁও, জামালগঞ্জ
৫. মোজাম্মেল (২৫), মানিগাঁও, জামালগঞ্জ
সাক্ষী ও ঘটনার প্রমাণঃ
ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষী হিসেবে মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন:
বুরহান উদ্দিন (ভুক্তভোগী)
রুহুল আমীর তানভীর (ডাউকেরকাড়া)
নুরুল হাসান (মানিগাঁও)
নাজিম উদ্দিন (নতুনপাড়া)
মোঃ মুসা মিয়া (নয়াহালট)
মোঃ সামির আলী (এতেকেরঝাড়া, পান্ডারগাঁও)
নির্যাতনের পর ভুক্তভোগীকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জামালগঞ্জে কর্তব্যরত চিকিৎসক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান।
যুবকটির অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। তার যৌনাঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা দ্রুত রেফার করি।
ভুক্তভোগীকে বহনকারী সিনজি চালক রুহুল আমিন বলেন
আমি ১৩ তারিখ দুপুরে তাকে জামালগঞ্জ হাসপাতাল থেকে সিলেট নিয়ে যাই। তার শরীরে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখনো বুঝিনি, এমন ভয়ংকর কিছু হয়েছে। পরে শুনি লিঙ্গ কেটে দেওয়া হয়েছে। এমন জঘন্য ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম।
ব্র্যাক জামালগঞ্জ অফিসের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান।
নিগার ও হুমায়ুন কিছুদিন ধরে ছুটিতে আছেন। বিষয়টি অফিসিয়ালি আমাদের কাছে এখনো আসেনি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলায় আরও উল্লেখ রয়েছে যে, আসামিরা বুরহানের Samsung A13 মডেলের মোবাইল, নগদ ১,৬৩,০০০ টাকা, এবং ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
বাদী মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৬ (গুরুতর জখম), ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা), ৫০৬ (হুমকি) ও ৩৪ সমবেতভাবে অপরাধ ধারায় শাস্তি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন,
এই ঘটনা আমার ভাইয়ের জীবনের সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিয়েছে। যদি এই ঘৃণ্য অপরাধের কঠোর বিচার না হয়, তাহলে আরও অনেক প্রবাসী এমন ভয়াবহতার শিকার হবেন।
আপনার মতামত লিখুন :