নেশার টাকার বিরোধে যশোরে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর এলাকায় চাঞ্চল্য


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন, যশোর ঝিকরগাছা। 
যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় নেশার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ছামিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সুজনের (২৬) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত সুজন নিজের শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ছামিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে বিয়ের পর তিনি স্বামী সুজনের সঙ্গে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার গয়হাটা (শান্তিনগর) গ্রামে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছামিনা ও সুজন সম্পর্কে মামাতো ভাই-বোন ছিলেন এবং প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন। পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সুজন ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ও স্বজনরা ছুটে এসে ছামিনাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সুজন একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। 

বর্তমানে তিনি বেকার ছিলেন এবং আবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিয়ের পর তারা পরিবার থেকে আলাদা হয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। অপরদিকে সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন নিহতের কয়েকজন স্বজন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সুজনের বাবা-মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধ ও নেশাজনিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ