আল্লাহর বাণী ও জুম্মার খুতবার ফজিলত
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
আল্লাহর বাণী ও জুম্মার খুতবার ফজিলত
____________________________
হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য উত্তম—যদি তোমরা জানতে।”
(সূরা আল-জুমুআহ ৬২:৯)
📖 আয়াত ১০
> “নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর, আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
(সূরা আল-জুমুআহ ৬২:১০)
✅ সারকথা—আল্লাহ কী নির্দেশ দিয়েছেন:
আল্লাহ তায়ালা শুক্রবারকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং বলেছেন—
জুমার আজান হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে
আল্লাহর স্মরণ (খুতবা ও নামাজ)-এ অংশ নিতে হবে
নামাজ শেষে হালাল রুজির জন্য কাজে ফিরে যেতে হবে
প্রতিদিন নয়, শুক্রবারকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন
🕌 প্রথম খুতবা (প্রথম অংশ)
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره…
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। যাকে আল্লাহ হেদায়েত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো।
মূল আলোচনা (ইচ্ছামতো বিষয় বসাবেন)
প্রিয় মুসল্লিবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করবো —
বিষয়: তাকওয়া ও দুনিয়ার দায়িত্ব
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য। আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। আমরা যেন দুনিয়ার মোহে পড়ে আখিরাতকে ভুলে না যাই।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
> “বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।”
আজ আমাদের সমাজে অনেকেই নামাজে গাফেল, হালাল-হারামের ব্যাপারে উদাসীন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা এবং তাকওয়ার জীবন গঠন করা।
প্রথম খুতবার শেষ দোয়া
أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم
আমি আমার কথা এখানেই শেষ করছি এবং আল্লাহর কাছে নিজের ও আপনাদের জন্য ক্ষমা চাই। আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।
🕌 দ্বিতীয় খুতবা (দ্বিতীয় অংশ)
الحمد لله رب العالمين…
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর।
প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন—
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ﴾
নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।
আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলি, নামাজ কায়েম করি, মিথ্যা, গিবত, সুদ, দুর্নীতি থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখি।
সমাপনী দোয়া
اللهم اغفر للمسلمين والمسلمات، والمؤمنين والمؤمنات، الأحياء منهم والأموات
হে আল্লাপনি জীবিত ও মৃত সকল মুসলিম নর-নারীদের ক্ষমা করে দিন।
اللهم أصلح شبابنا، واحفظ بلادنا
হে আল্লাহ! আমাদের যুবসমাজকে হেদায়েত দিন এবং আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখুন।
ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতে কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
খুতবা শেষ বাক্য
إن الله يأمر بالعدل والإحسان…
أقيموا الصلاة – নামাজ কায়েম করুন।
আপনার মতামত লিখুন :