মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসায় ২০ লাখ টাকার জালিয়াতি শিক্ষক রশিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
🖋️ মোঃ সেলিম সাজ্জাদ
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়ঙ্কর প্রতারণা ও জালিয়াতি করে প্রায় ২০ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক রশিদুল ইসলাম খান (৪৩) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সূত্র জানায়, শিক্ষক রশিদুল ইসলাম নীলফামারী জেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সুযোগে তিনি প্রতিষ্ঠান ও সহকর্মীদের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষক নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের নামে এই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগের বিবরণ:
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মো. ইদ্রিস খান কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে আরবি প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ মৌখিক অভিযোগ করেন তার স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম চলতি পরীক্ষায় তাকে অবৈধভাবে পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেখিয়েছেন।
বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোপন নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে উঠে আসে আরও বিস্ময়কর তথ্য।
রশিদুল ইসলাম একাধিক সহকর্মী— মো. আব্দুর রউফ, মো. মোফাজ্জল হোসেন, শামসুল আলম, আব্দুল হাফিজ, হারুনুর রশিদসহ অন্তত ১০-১২ জনের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
৮-৯ বছরের প্রতারণা চক্র!
অধ্যক্ষ দাবি করেন, গত ৮-৯ বছর ধরে শিক্ষক রশিদুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা ও আত্মসাত চালিয়ে আসছেন, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষক রশিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং কৌশলে বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আইনি ব্যবস্থা:
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান,
মামলা নং: ৪৮(৭)২০২৫
ধারা: ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৪, পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মাসুদ জামালী। অভিযুক্ত রশিদুল ইসলাম খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
মতামত বিশ্লেষকদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের জালিয়াতি শুধু অনৈতিকই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ও শিক্ষক মহল।
আপনার মতামত লিখুন :