টঙ্গীতে পরকীয়ার বলি এক যুবক: প্রকাশ্যে খুন, প্রেমিকা গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদন
দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর ডেক্সঃ



টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কামরুল এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লকের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং বয়স ছিল ২৬ বছর। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক সন্তানের জননী ও কামরুলের প্রেমিকা সুলতানা বেগমকে, যিনি ১ নম্বর ব্লকের পাখি মিয়ার মেয়ে ও অভিযুক্ত স্বামী মো. সাব্বির আহমেদের স্ত্রী। প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ, তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাব্বির এখনো পলাতক রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সুলতানা ও কামরুলের মধ্যে গোপন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে দু’জনের মধ্যে পরকীয়া চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী সাব্বির তাদের বারবার সতর্ক করেন ও সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু কামরুল ওই অনুরোধ মানেননি, বরং সম্পর্ক বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দত্তপাড়া দিঘীরপাড় দারুল আহসান মাদানিয়া মাদ্রাসার সামনে সুলতানার সঙ্গে দেখা করতে আসেন কামরুল। সুলতানা সেসময় সন্তানকে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎ হাজির হন সাব্বির। তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো সুইচগিয়ার ও লোহার রড দিয়ে কামরুলের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা প্রথমে কামরুলকে আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়, পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সবশেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে কামরুল মারা যান। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই কামাল হোসাইন বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি প্রেমিকা সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানায়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সাংবাদিকরা নিহত কামরুলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। পারিবারিক সম্মান, সামাজিক চাপে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ