লাকসাম গোপালপুরে জমিজমা না দেওয়ার কারণে নিজ পিতাকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মোঃ ইকবাল মোরশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
লাকসাম পৌরসভার গোপালপুরে জমি জমা সন্তানদের নামে না লিখে দেওয়ার কারণে স্ত্রী সহ বাবা মোঃ আব্দুল জলিলকে বেঁধে বেদম মারধর এবং মুখে দিয়ে গরম পানি দেওয়া হচ্ছে খুবই নির্যাতন চালানো হচ্ছে
লাকসাম উপজেলায় মোঃ আবদুল জলিল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে বেঁধে নির্যাতন করেছেন তার স্ত্রী-সন্তানরা। আবদুল জলিলের দাবি, বড় ছেলেকে বাদ দিয়ে বাকি সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় তাকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার লাকসাম পৌরসভার গোপালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে বৃদ্ধ জলিলকে টানাহেঁচড়া এবং ধাক্কাধাক্কি করছেন এক ছেলে। একপর্যায়ে পরনের গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় আরেক ছেলে রশি খুঁজছিলেন। পরে রশি এনে বাবার হাত-পা বাঁধেন দুই ছেলে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন জলিলের মেয়েও। হাত-পা বাঁধার পর তার মুখে গরম পানি ঢালেন তারা। এ সময় তিনি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেন।
স্থানীয়রা জানান, জলিলের নামে বসতবাড়ি ও মাঠে ১২০ শতাংশ জমি আছে। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে প্রবাসে থাকেন। সম্পত্তি লিখে দিতে প্রায় বাবাকে মারধর করেন সন্তানরা। এমনকি তাকে ভরণপোষণও দেন না। এ নিয়েই স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে জলিলের দ্বন্দ্ব। এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে এসব নিয়ে।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুরের চেষ্টা চালান জলিল। পরে ছেলেমেয়েরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাবার ওপর নির্যাতন চালায়।
আবদুল জলিল বলেন, অনেক দিন ধরে সন্তানরা সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে। আমার স্ত্রীও এর প্রতিবাদ করে না। আমাকে তারা ভরণপোষণও দেয় না। ছোটখাটো ঘটনা নিয়ে ঝামেলা করে।
তিনি জানান, ওইদিনের ঘটনার পর তিনি স্ত্রী রিনা আক্তার, দুই ছেলে নোমান ও রকি এবং মেয়ে নাজমিনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :