জীবিকা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সুনামগঞ্জের বাইকাররা


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

জীবিকা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সুনামগঞ্জের বাইকাররা


সুনামগঞ্জ: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি বাজারে। সুনামগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে তেলের তীব্র সংকট ও উপচে পড়া ভিড়। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর অবস্থান। এখন থেকে বৈধ কাগজপত্র না থাকলে কোনো মোটরসাইকেল চালককে তেল দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের এই নতুন কৌশলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো হাজারো চালক।

​পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি, নতুন নিয়মে ক্ষোভ

​সরেজমিনে সুনামগঞ্জের সিনথিয়া, বলাকা ও ছফেদা পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন শত শত বাইকার। সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির হালনাগাদ কাগজপত্র নেই, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।

​প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাগজপত্র যাচাই করে তেল সরবরাহ করলে পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা কমবে। তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়। এদিকে খোলা বাজারেও তেল না মেলায় সাধারণ চালকদের পাশাপাশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ‘রাইড শেয়ারিং’ করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো।

​জীবিকার চাপে পিষ্ট প্রান্তিক চালক

​বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেক যুবক কিস্তি বা ঋণ নিয়ে মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। রাইড শেয়ারিং বা চুক্তিতে যাত্রী বহন করে তাদের দিন ভালোই কাটছিল। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনের কড়াকড়ি তাদের উপার্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​একজন ভুক্তভোগী চালক আক্ষেপ করে বলেন:

​"আমরা গরিব মানুষ, অভাবের তাড়নায় রাস্তায় নামছি। কিস্তির টাকা শোধ করতেই হিমশিম খাই, তার ওপর এখন যদি কাগজপত্রের অজুহাতে তেল না পাই, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আমাদের পেটে লাথ মারলে আমরা বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কই যামু? প্রশাসন যদি শুধু কাগজের কথা ভাবে, আমাদের পেটের কথা কে ভাববে?"


​প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

​জ্বালানি সংকট ও কড়াকড়ির কারণে অনেক চালক এখন বেকার হওয়ার উপক্রম। চালকদের দাবি, এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে নিয়ম শিথিল করা হোক। তারা মনে করেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের চেয়ে তেলের সুষম বণ্টন ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এখন বেশি জরুরি।

​ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই কঠোর পদক্ষেপ থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে পরিবহন খাতের এই প্রান্তিক শ্রমিকরা চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ