সরকারি রাস্তার ইট তুলে ইউপি সদস্যের বাড়িতে পাকা বাথরুম


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


​আলমগীর হোসেন রাজা চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক: 

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামে সরকারি গ্রামীণ রাস্তার (হালট) ইট তুলে নিয়ে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম ও গোসলখানা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের সভাপতি সংশ্লিষ্ট নারী ইউপি সদস্য এবং তার ঠিকাদার স্বামী মিলে দিনদুপুরে এই কাজ করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

​প্রকল্পের বিবরণ ও স্থানীয়দের ভোগান্তি

​সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা-উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) মোতাবেক ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত ৬শ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়। প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

​স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল হালিম জানান, পাশেই রয়েছে প্যারাজানি বিল, যেখানে সহস্রাধিক একর জমিতে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। বিলে চাষাবাদ এবং সেখান থেকে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার একমাত্র অবলম্বন এই সড়কটি। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সড়কটি মেরামত ও ইটের সলিং করে দেয়। কিন্তু দুই মাস আগে রাস্তার সব ইট তুলে নেওয়া হয়।

​এদিকে ইট তুলে নেওয়ায় চলতি বর্ষায় রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় ইচ্ছামত ইটের রাস্তা বানাইছে। আবার তারাই দিন দুপরে রাস্তার ইট তুইলা নিয়া বাড়িতে গোছলখানা আর পাকা পায়খানা দিছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।"


​গত রবিবার ওই ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের বিবরণ সংবলিত সরকারি সাইনবোর্ডটি নবনির্মিত বাথরুমের পাশেই পড়ে রয়েছে।

​অভিযুক্তদের বক্তব্য ও পরস্পরবিরোধী দাবি

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজে। আর কাজের ঠিকাদারি পেয়েছিলেন তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্যের স্বামী ও ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই অর্থ বছরে উক্ত ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীণ সড়ক সলিংয়ের কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত (থেকে যায়) ছিল। সেই ইট দিয়েই তিনি বাড়িতে বাথরুম বানিয়েছেন। সরকারি উদ্বৃত্ত ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "উপজেলা প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কী সমস্যা?"

​তবে ঠিকাদার স্বামীর এই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি করেছেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম। তিনি পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, "গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসে না।" ইট চুরির ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে, তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে তারা ভাবছেন না।

​এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ