সুনামগঞ্জে মাসব্যাপী বানিজ্য মেলা ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


শফিকুল বারী সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেলার নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ষোলঘর মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামসুল হক। অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব নাসিম উদ্দিন লালা, চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি এনাম আহমদ এবং বাণিজ্য মেলা কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম রাজুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

​ষোলঘর মাঠে মাসব্যাপী এ মেলা আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন তারা।

​ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন, রুমেন মিয়া, বাবলু মিয়া ও শিপু আলমসহ স্থানীয়রা জানান, মেলা চলাকালীন উচ্চশব্দে মাইক ও সাউন্ডসিস্টেম বাজানোর ফলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যঘাত ঘটে। বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার এই সময়ে এমন আয়োজন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন।

​পাশাপাশি, ষোলঘর মাঠটি এলাকার একটি বৃহত্তর খেলার মাঠ। ঐতিহ্যবাহী এই মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ জানান বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, মেলা শেষে আয়োজকরা কাঁচের টুকরো, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য মাঠেই ফেলে রেখে যান। ফলে মেলা পরবর্তী সময়ে শিশুরা যখন এই মাঠে খেলাধুলা করতে নামে, তখন মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়।

​বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শামসুল হক জানান, দেশীয় পণ্যের প্রসার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর সুনামগঞ্জে কোনো বাণিজ্য মেলা না হওয়ায় এবার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
​মেলা পরিবেশবান্ধব ও সুশৃঙ্খল রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
​পরীক্ষার সময় বিবেচনা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যাঘাত ঘটে,এমন সময়ে মেলা চালু করা হবে না।

উচ্চশব্দে গান-বাজনা বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে, যাতে আশপাশের মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাসিন্দাদের কোনো অসুবিধা না হয়। ​প্রতিদিন রাত ১০টার মধ্যেই মেলার সব কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​এক মাসের মেলা শেষ হওয়ার পর মেয়াদের কোনো সময় বর্ধিত করা হবে না।

মেলায় কোনো ধরনের অশ্লীল নাচ-গান বা সার্কাসের সুযোগ থাকবে না।
​মেলাটি সফল, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকেরা। তবে পরিবেশ রক্ষা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় আয়োজক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ