মালয়েশিয়া থেকে ৫১ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দুই জাহাজ


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

​মালয়েশিয়া থেকে ৫১ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দুই জাহাজ


​দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুদ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বড় স্বস্তির খবর নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে দুটি বিদেশি জাহাজ। মালয়েশিয়া থেকে আসা এই জাহাজ দুটিতে মোট ৫১ হাজার টন জ্বালানি তেল রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ২৬ হাজার টন অকটেন এবং অন্যটিতে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল রয়েছে।

​অকটেন নিয়ে পৌঁছেছে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’

​বন্দর সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে পৌঁছেছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার মো. নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার জাহাজটি পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে এবং দ্রুতই এর অকটেন খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।

​ফার্নেস অয়েলের বড় চালান

​একই সময়ে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজ বহির্নোঙরের চার্লি অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক (রেফায়েত হামিম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​কেন এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ?

​মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে:

  • ​দেশে বছরে জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন
  • ​চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
  • ​বাকি সিংহভাগ পরিশোধিত তেল আসে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।
  • ​"দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জাহাজ থেকে তেল ও গ্যাস খালাস হয়েছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ পাইপলাইনে রয়েছে।"

    সৈয়দ রেফায়েত হামিম, সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।


    ​এপ্রিলের জ্বালানি পরিকল্পনা ও সাম্প্রতিক চিত্র

    ​বিপিসি জানিয়েছে, শুধু চলতি এপ্রিল মাসেই দেশে প্রায় ৪ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    গত মার্চ ও এপ্রিলের পরিসংখ্যান:

    | বিবরণ | সংখ্যা/পরিমাণ |

    | :--- | :--- |

    | মার্চ মাসে বন্দরে ভিড়া জ্বালানি ও গ্যাস জাহাজ | ৩৩টি |

    | এর মধ্যে জ্বালানি তেলের জাহাজ | ১৫টি |

    | এলএনজি ও এলপিজি জাহাজ | ১৭টি |

    | এপ্রিলের ১৫ তারিখের মধ্যে সম্ভাব্য জাহাজ | আরও ৫টি |

    ​জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক এই অস্থির সময়ে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম বন্দরে ধারাবাহিকভাবে এসব জাহাজ ভিড়লে বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ