অসহায় বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানের লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার।


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক:

অসহায় এক বৃদ্ধা মহিলার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাকে রাজধানীর মিরপুর বা সাভারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার (Child & Old Age Care) প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিতে গিয়ে চরম লাঞ্ছনা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নাহিদ হাসান নামের এক তরুণ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মিল্টন সমাদ্দার ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।


​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

​নাহিদ হাসান জানান, গত তিন-চার দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এক অসুস্থ বৃদ্ধা নারীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন তিনি। পরে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অর্থ সহযোগিতা সংগ্রহ করে তাকে ঢাকায় মিল্টন সমাদ্দারের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে ওই বৃদ্ধাকে রাখতে প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং নাহিদ তা দিতেও রাজি হন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি তাকে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। উপায় না পেয়ে নাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টের জেরে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মিল্টন সমাদ্দার। এরপর তিনি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) নিয়ে আসার শর্তে বৃদ্ধাকে আশ্রয়ের কথা জানান।


​মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর পর নির্যাতন

​সব কাগজপত্র ও জিডির প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ২:৩৩ মিনিটে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান নাহিদ ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর পরই মিল্টন সমাদ্দার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ার ক্ষোভ থেকে নাহিদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং গায়ে হাত তোলা হয়।

​নাহিদ হাসান জানান, "মিল্টন সমাদ্দার আমার গায়ে হাত তোলেন, চোখে আঘাত করেন, গেঞ্জি ধরে চড় মারেন এবং বুকে আঘাত করেন। আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী দেবাশীষ ছাড়ানোর নামে আমার গলা চেপে ধরে, যার ফলে আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। আমার সাথে থাকা ইলিয়াস ভাইকেও মারধর করা হয়।"


​২০-২৫ জনের পাহারায় আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি

​ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির নির্জন পরিবেশ ও একটিমাত্র যাতায়াত পথ থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। প্রায় ২০-২৫ জন লোকের সামনে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে তাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে একটি ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, যা ওই প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে যাওয়ার পথেই নাহিদ তার পরিচিত কয়েকজনের কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে রেখেছিলেন এবং মোবাইলে পুরো ঘটনার অডিও রেকর্ড চালু রেখেছিলেন।


​বর্তমানে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী

​বৃদ্ধা মহিলাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রেখে আসার পর সেখান থেকে কৌশলে উদ্ধার পেয়ে ঢাকায় ফেরেন নাহিদ ও তার সঙ্গীরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চোখ পরীক্ষা এবং এক্স-রে করান তিনি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন ও ওষুধপত্র নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

​এই মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে নাহিদ হাসান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "এই ঘটনার কোনো বিচার চাই না। কারণ এই দেশে বিচার হয় না, বরং উল্টো আমাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।"

​ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ