প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ে 'পাথর নিক্ষেপ' নাকি 'ছদ্মবেশী রেকি


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


ঢাকা | ১৪ জুলাই, ২০২৬

​রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ব্যক্তির নিরাপত্তা কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের রাজৈর এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজানের মতে, এই ঘটনাটি আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।

​অপরাধবিজ্ঞানের ‘রুটিন অ্যাক্টিভিটি থিওরি’ অনুযায়ী, যেকোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনটি উপাদানের উপস্থিতি প্রয়োজন: উদ্বুদ্ধ অপরাধী, উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তু এবং সুরক্ষার দুর্বলতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো অতি-উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা সত্ত্বেও গাড়িবহরের এত কাছাকাছি দূরত্বে বহিরাগত আঘাত পৌঁছানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় কৌশলগত বিচ্যুতি বা ‘ট্যাকটিক্যাল ফেইলিয়র’। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একে নিছক পাথর নিক্ষেপ না বলে, বরং বড় ধরনের কোনো নাশকতার আগে নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রতিক্রিয়া বা ‘রেসপন্স টাইম’ পরীক্ষা করার জন্য চালানো ‘ছদ্মবেশী রেকি’ (Reconnaissance) বা ‘প্রোবিং অ্যাটাক’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

​ভিআইপি সুরক্ষার প্রধান শর্ত হলো গোপনীয়তা ও অনিশ্চয়তা (Unpredictability)। অথচ বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য—যেমন কোন গাড়িতে তিনি আছেন বা কোথায় বসেছেন—তা গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে প্রচারিত হচ্ছে, তা চরম অপেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ। এই অবাধ তথ্যপ্রবাহ ঘাতক চক্রের জন্য ‘টার্গেট প্রোফাইলিং’ সহজতর করে দিচ্ছে।

​মাদারীপুরের ঘটনা আমাদের একটি বড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এখন সময় এসেছে বিদ্যমান নিরাপত্তা প্রটোকল সংস্কারের। সুরক্ষার খাতিরে যাতায়াতের রুট ও আসন বিন্যাসকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্তনযোগ্য বা ‘ডায়নামিক’ রাখতে হবে। একই সাথে ‘ডিকয় মোটরকেড’ বা ডামি গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভিআইপিদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের সরাসরি প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি।

​জনপ্রিয়তা এবং জননিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করাই নিরাপত্তা বাহিনীর মূল দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর জনসম্পৃক্ত হওয়ার মানবিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়েই নিরাপত্তা বাহিনীকে এখন আরও অধিক প্রযুক্তি-নির্ভর ও নিশ্ছিদ্র বলয় গড়ে তুলতে হবে। অতি-উৎসাহী প্রচারণার আড়ালে রাষ্ট্রের মূল ঝুঁকি কোনোভাবেই উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়। মাদারীপুরের ঘটনাকে পুঁজি করে এখনই প্রয়োজনীয় কৌশলগত পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ