যশোরে বিসিআইসি অ্যাসোসিয়েশন ও সার ডিলারদের সংবাদ সম্মেলন


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সার ডিলাররা সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০০৯ বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সার ডিলার ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব শাহ জালাল হোসেন। এ সময় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুন, কেন্দ্রীয় নেতা ফায়জুর রহমান বকুলসহ প্রায় তিন শতাধিক সার ডিলার উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে ডিলারশিপ প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে সার সরবরাহ কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিসিআইসি নিয়োগকৃত ৫ হাজার ৬০০ জন এবং বিএডিসি নিয়োগকৃত ৫ হাজার ২০০ জনসহ সারাদেশে মোট ১০ হাজার ৮০০ জন ডিলার ও ৪৫ হাজার খুচরা বিক্রেতা কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ করছেন। ফলে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই।

বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৫ বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে সংকট দেখা দেবে। ইউনিয়নভিত্তিক নতুন ডিলার নিয়োগ, একাধিক গুদাম স্থাপনের অতিরিক্ত ব্যয়, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে। এতে বহু ডিলার দেউলিয়া হয়ে পড়বে এবং কৃষক পর্যায়ে সারের সরবরাহ ব্যাহত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিদ্যমান ডিলারদের ডিলারশিপ বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, পরিবারের একাধিক সদস্য যদি পৃথকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা অনুচিত হবে।

তারা আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যাংক সুদ, গুদাম ভাড়া, কর্মচারী ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বেড়ে গেলেও ডিলারদের পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন বাড়ানো হয়নি। অবিলম্বে বাস্তবসম্মতভাবে পরিবহন ভাতা ও কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

বক্তারা সারের ওপর আগাম কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করার দাবি জানান এবং কৃষি মন্ত্রণালয়কে জেলার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শেষে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়—
১. সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা–২০০৯ বহাল রাখা,
২. বিসিআইসি সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি,
৩. প্রত্যেক জেলার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা,
৪. নন–ইউরিয়া সারের ৮০% বেসরকারি ও ২০% বিএডিসি আমদানির ব্যবস্থা করা।

বক্তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিলাররা লোকসানের মুখে পড়ছেন, যা অব্যাহত থাকলে সার বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।


মালিকুজ্জামান কাকা, যশোরঃ


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ