ভোক্তা বঞ্চিত,সফটওয়্যার তুষ্ট-রাজশাহীতে টিসিবির বিতরণ রহস্য


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধানঃ



ভোক্তা বঞ্চিত,সফটওয়্যার তুষ্ট-রাজশাহীতে টিসিবির বিতরণ রহস্য

রাজশাহীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এপ্রিল মাসের পণ্য বরাদ্দে চাল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, বাস্তবে সেটি পরিবেশকদের হাতে পৌঁছায়নি। অথচ সফটওয়্যার সিস্টেমে চাল বিতরণের তথ্য এন্ট্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন পরিবেশকেরা।

জানা গেছে, এপ্রিল মাসে রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৭টি অ্যাকটিভেটেড স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে টিসিবি পণ্য বরাদ্দ দেয়। প্রতিটি কার্ডধারীকে ১০ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে চাল সরবরাহ না হওয়ায় বিতরণে জটিলতা দেখা দেয়।

পরিবেশকদের দাবি, টিসিবির সফটওয়্যার চাল বিতরণ না দেখালে অন্য পণ্য এন্ট্রি করা যাচ্ছে না। ফলে জেলা প্রশাসনের বাণিজ্য শাখার নির্দেশে তারা চাল বিতরণ হয়েছে দেখিয়ে সফটওয়্যারে তথ্য দিচ্ছেন। এতে বাস্তবের সঙ্গে তথ্যের গড়মিল তৈরি হয়েছে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার এক পরিবেশক বলেন, “আমরা চাল পাইনি, কিন্তু সফটওয়্যার চাল ছাড়া ডেটা নিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে চাল বিতরণ দেখাতে হয়েছে।”

টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান জানান, তারা যথারীতি চারটি পণ্যের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে চাল সরবরাহের দায়িত্ব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের। এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা চিঠি তাদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুক জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় এই মাসে চাল সরবরাহ সম্ভব হয়নি। আগে পাঁচ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ১০ কেজি করা হয়, যা অর্থ বিভাগের অনুমোদিত ছিল না। তিনি বলেন, “পরবর্তী মাসের সঙ্গে এপ্রিলের বরাদ্দ মিলিয়ে দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

উল্লেখ্য, পণ্য বিতরণের সময়সীমা ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত, কিন্তু সরবরাহ জটিলতার কারণে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বিতরণ শুরু হয় এবং এখনো তা শেষ হয়নি। এই বিলম্ব ও বাস্তবতা বিবর্জিত সফটওয়্যার এন্ট্রির কারণে পরিবেশক ও উপকারভোগীরা উভয়েই ভোগান্তিতে পড়েছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ