বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর সাগর (৩৩) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, মামলা গ্রহণ ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিচার দাবি করায় পরিবারকে দেওয়া প্রাণনাশের Threats (হুমকি)-র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবাধিকার সংগঠন ভার্ড-বাংলাদেশ (VARD-BANGLADESH)-এর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সাগরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু ঘটনার প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর মামলা বা বিচারিক অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো বিচার দাবি করায় নিহতের পরিবারকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মানববন্ধনে ভার্ড-বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম.এস.এ রেজা বলেন,
"একজন অসহায় দিনমজুরের মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।"
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মাহাবুব আলম আব্বাসী বলেন, "সাগর হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নৃশংস ঘটনার বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।"
মহাসচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, "যে পরিবার ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ে, সেই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।"
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিউম্যানরাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ বলেন, "গণমাধ্যমে বারবার বিষয়টি উঠে আসলেও যদি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার না পায়, তবে তা ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।"
মানবাধিকার সংগঠক মুসলিম উদ্দিন সম্রাট বলেন, "বিচার চাওয়ার কারণে কোনো নাগরিক যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
বক্তারা আরও জানান, সাগর হত্যাকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনার ২২ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
একই সাথে মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করেন এবং এই চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে ৫টি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. অবিলম্বে সাগর হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক মামলা গ্রহণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার।
৩. ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
৪. যুবদলের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ।
৫. সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান।
মানববন্ধন শেষে জানানো হয়, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাসুদ হোসেন, ভার্ড-বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আশিক মন্ডল, যৌথ সম্পাদক সোহাগ হাসান ও মো. রিয়াজ, কার্যকরী সদস্য মো. আকাশ মাদবরসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আপনার মতামত লিখুন :