ইউটিউবার মোজাহের সেজে প্রতারণার ফাঁদ, সাতক্ষীরায় সাংবাদিককে টার্গেট


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা

​সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সমাজসেবক 'মোজাহের ভাই' পরিচয় দিয়ে প্রতারণার নতুন এক শক্তিশালী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে অন্তত চারজন ব্যক্তি মোজাহের ভাইয়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চক্রটির সবশেষ শিকার হতে চলেছিলেন মনিরুল ইসলাম নামের একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী।

ঘটনার বিবরণ:

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম জানান, ফেসবুকে মোজাহের ভাইয়ের জনকল্যাণমূলক ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত অভাব-অনটনের কারণে সহযোগিতার আশায় নির্দিষ্ট ইমো নম্বরে যোগাযোগ করেন। ১৬ এপ্রিল বিকাল ৪টার দিকে জনৈক এক ব্যক্তি নিজেকে মোজাহের ভাই পরিচয় দিয়ে তাকে ৮০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দেন।

​এর কিছুক্ষণ পরেই ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত 'জনকল্যাণ ব্যাংক'-এর প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ০১৯০২৬৩৩৮২২ নম্বর থেকে মনিরুলকে ফোন করা হয়। ফাইল প্রসেসিং এবং অন্যান্য খরচের কথা বলে তার কাছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুনরায় কথিত 'মোজাহের ভাই'কে বিষয়টি জানালে, ওই ব্যক্তি তাকে আশ্বস্ত করেন এবং রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা আছে বলে টাকা পাঠাতে চাপ দেন।

তথ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি:

প্রতারক চক্রটি কৌশলে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি, তার স্ত্রীর পরিচয়পত্রের কপি এবং বিকাশ নম্বর হাতিয়ে নিয়েছে। মনিরুল ইসলাম জানান, "সহযোগিতার কথা বলে তারা আমার সব ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েছে। এখন আমি চরম দুশ্চিন্তায় আছি যে, আমার এই আইডি কার্ড ব্যবহার করে তারা কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা ডিজিটাল ক্রাইম করতে পারে।"

চক্রের বিস্তার:

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক মাসে অন্তত চারজন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি 'মোজাহের ভাই সাহায্য কেন্দ্র' বা 'মোজাহের ভাই' নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়েছে। এদের মধ্যে ০১৮০৬৮৯৮০৩৫ এবং ০১৮৬৫৮৬৭৪০৮ নম্বর দুটি ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয়েছে। চক্রটির কাছে মনিরুল ইসলামের মতো আরও হাজারো মানুষের তথ্য ও অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম বর্তমানে পারিবারিক অসচ্ছলতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কায় মানসিক চাপে রয়েছেন। তিনিসহ জেলার সচেতন মহলের দাবি, এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের যেকোনো একজনকে শনাক্ত করতে পারলেই মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ