সাংবাদিক’-এর পরিচয়ে পরিচালিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার ভয়ঙ্কর চিত্র


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদন   
দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর



সাংবাদিক পরিচয়ে অপরাধচক্র! 
ময়মনসিংহে কোতোয়ালি মডেল থানায়  নাদিমের গাড়ী থেকে উদ্ধাকৃত অস্র নিয়ে ধুম্রজালে পুলিশ
কোতোয়ালির ওসি ও এসআইকে 
ফাঁসানোর চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্র

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক ‘সাংবাদিক’-এর পরিচয়ে পরিচালিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার ভয়ঙ্কর চিত্র। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি নাদিম, যিনি আসলে একটি সুপরিকল্পিত অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি করছে তদন্ত সংস্থা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনী ও কোতোয়ালি থানার যৌথ অভিযানে সাংবাদিক নাদিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। অভিযানের পর মামলা দায়ের করে তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আনোয়ার হোসেন। তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তিনি নাদিমকে আদালতে সোপর্দ করেন।

জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র চার মাস পরেই নাদিম ফের আলোচনায় আসেন এক রহস্যজনক কৌশল নিয়ে। থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি দাবি করেন, তার গাড়িতে 'কিছু' থাকতে পারে এবং তাকে ‘ফাঁসানোর’ ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার কথামতো থানার উপস্থিতিতে গাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ। তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ির সিটের নিচ থেকে উদ্ধার হয় একটি আগ্নেয়াস্ত্র!

এই ঘটনায় থানা কর্তৃপক্ষ সন্দেহ প্রকাশ করলে শুরু হয় আরেক দফা তদন্ত। এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি নাটক। মূলত চার্জশিট থেকে রেহাই পেতে এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই কৌশলী ফাঁদ পাতেন নাদিম। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওসি শফিকুল ইসলাম খান তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন  সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। এসআই আনোয়ার হোসেনও একজন দক্ষ ও সাহসী পুলিশ সদস্য, যিনি সত্য প্রতিষ্ঠায় নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। অথচ এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বারবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে কিছু অসাধু চক্র, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় চক্রান্তকারী ও অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সময় এসেছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত অপরাধচক্রের মুখোশ উন্মোচনের এবং সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করার।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ