বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বনাম তাদের লোক চক্ষু দুর্নীতি এ যেন শূণ্যের ঘরে
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বনাম তাদের লোক চক্ষু দুর্নীতি এ যেন শূণ্যের ঘরে
______________________________
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম নিয়ে রাজনীতির উথালপাতাল সমালোচনায়, চলছে এদিক ওদিক তমুল আলোচনা, ভাষণে বয়ানে টকশোতে। হাটে - বাজারে, গ্রামেগঞ্জে, চায়ের দোকানসহ। এমনকি চারজন লোক এক জায়গায় দাড়িয়ে কথা বললেও জামায়াতের বিষয় নিয়ে অন্য পাঁচটি প্রশ্ন সামনে চলে আসে অনেকের । চলে আসে প্রথমেই জামায়াত মানেই যুদ্ধাপরাধী। কিন্তু তাদের দুর্নীতি নিয়ে জনগণের মাঝে তেমন অভিযোগ নেই বললেই চলে।
আমি গত রমজানে যখন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত, ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম,চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার লোক আমি দেখেছি। তারা প্রায় সবাই জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সারাদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের পরিবেশ দেখে, আমি তো রীতিমতো অবাক! তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল একটি সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত আমীরে জামায়াত, ডা. শফিকুর রহমানের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। অল্প সময় কথা হয়।
আমি এর আগেও জামায়াতে ইসলামী নিয়ে বেশ লেখালেখি করেছি। যা ছিলো প্রতিবাদী লেখা। আমার প্রশ্ন হলো, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা বিরোধী দল। এরকম উক্তি দেশ স্বাধীনের এত বছর পর সম্পূর্ণ বেমানান। এবং অযুক্তিও বটে। এছাড়া আমি যদি অতিতে যাই। যেমন স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো, যদি এ কথাটি সত্যি ও হয়ে থাকে। যদিও স্বাধীনতার সময় আমার বয়স ছিলো তিন বছর। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশের উপরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কর্তৃত্ব বলতে কিছুই আর করেনি।
দেশ স্বাধীনের পর পাকিস্তান কোনরকম জুলুম অত্যাচার করার চেষ্টা করেনি গত তেপ্পান্ন বছরে। এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। স্বাধীনতার পর জামায়াতের কেউ কারো বাড়িতে ডাকাতি করেছে চুরি করেছে, এমন কথাও কোথাও আলোচনায় নেই । কিন্তু অনেক মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীনেরর পর, ডাকাতি করেছে। এমন প্রমাণ কিন্তু অহরহ আছে। এমনকি গত সরকারের আমলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা, মন্ত্রী হবার পরেও, কোটিপতি থাকার পরেও। সরকারের দেয়া বিশ হাজার টাকা ভাতা, তাও কিন্তু নিয়েছেন। এখানেও কিন্তু এই জাতি ধনী মুক্তিযোদ্ধাদের মানবিকতা খোঁজে পায়নি।
৫ আগষ্ট ২০২৪ আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে, জামায়াত নতুন করে, নতুন আঙ্গিকে দলটাকে আরো মজবুত করার জন্য প্রানপণ যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এখানে লোক চক্ষুর সামনে তাদের কোনো দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়নি এখনো। আমি ব্যক্তিগত ভাবে জামায়াতের যাদেরকে চিনি। তাদের মধ্যে অনেকেই ধুমপান পর্যন্ত করেন না। এমন অসংখ্য জামায়াত পন্থী নেতাদের সাথে আমার পরিচয় রয়েছে।
এছাড়া জামায়াত পন্থী নেতা বা কর্মী যাদের সাথে আমার সখ্যতা রয়েছে। তাদের মধ্যে নব্বই ভাগ লোক কর্মজীবী। যেমন সরকারি, বেসরকারি চাকরি, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য পেশায় জড়িত রয়েছেন। আচার আচরণের দিক দিয়েও সুন্দর। আমি মনে করি জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল এবং শিক্ষিত জনবলের এক মজবুত সংগঠন। তারা কান কথা আর লোক নিন্দা এড়িয়ে খুব ভালো অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছেন । সামনে আরো সুদিন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
আপনার মতামত লিখুন :