যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩৭ বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
যাবজ্জীবন বা ৩০ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রেয়াতসহ ২০ বছর বা তার বেশি সাজা ভোগ করা ৩৭ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
__________________________
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন (নং-১৪৩) জারি করা হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই মুক্তির আদেশ কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে কারা অধিদপ্তর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি বন্দিদের মুক্তির তালিকা চূড়ান্ত করেছে। জেলা কারাগারগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কারাবিধির ৫৬৯ ধারার আওতায় এই ৩৭ জন বন্দির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। তারা সবাই রেয়াতসহ ২০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে সাজা ভোগ করেছেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, “যাদের সাজা ছিল ৩০ বছর বা যাবজ্জীবন, তাদের মধ্যে যেসব বন্দি রেয়াতসহ ২০ বছর অতিক্রম করেছেন, তাদের মামলা বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বয়স, আচরণ ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সরকার তাদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই আদেশ অনুযায়ী ৩৭ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। কারও অবশিষ্ট সাজা ছিল ১০ বছর, কারও ৭ বা ৬ বছর। সবগুলোই মওকুফ করায় এবার তারা মুক্তি পাবেন।”
জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কোনও নারী বন্দি নেই, যদিও প্রাথমিক প্রস্তাবে নারী-পুরুষ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মুক্তিপ্রাপ্তদের অধিকাংশই খুন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে সাজা ভোগ করছিলেন।
🔹 সম্পাদকীয় মতামত:
সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক প্রশাসনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ সময় সাজা ভোগের পর যারা অনুশোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উপযুক্ত হয়েছেন, তাদের সমাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া মানবিক রাষ্ট্রের লক্ষণ। তবে এই মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের সামাজিক পুনর্বাসন ও পুনরায় অপরাধে না জড়ানোর নিশ্চয়তা নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :