এক বাথরুমে স্ত্রী সহ পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন ওবায়দুল কাদের


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

শেখ শহিদুল ইসলাম মিঠু 
ব্যূরো প্রধান খুলনাঃ



ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের পাঁচ আগস্ট ক্ষমতা যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সাবেক স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনা তার, নেতাকর্মীদের ফেলে পরিবারের লোকদের নিয়ে পালিয়ে যান ভারতে ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা বক্তার বিবৃতি দিয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন তাদেরকে দলের দুঃসময়ে পাশে পাইনি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা, 

চরম দুঃসময়ে যেসব নেতা দলীয় কর্মীদের পাশে ছিলেন না তাদের মধ্য অন্যতম আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, 

গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি টু শব্দটি পর্যন্ত করেননি, ছিলেন আড়ালে অথচ আগে প্রায় প্রতিদিনই বিরোধীদলকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতেন তিনি, 

সম্প্রতি ওবায়দুল কাদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন, ভারতীয় গণমাধ্যম দেয়া ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া ওবায়দুল কাদেরের এক সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে,

যেখানে তিনি জানিয়েছেন, জনতার ঘোর থেকে বাঁচতে তিনি স্ত্রী সহ এক বাথরুমে ৫ ঘন্টা লুকিয়ে ছিলেন, ৫ আগস্টের পর কতদিন দেশে ছিলেন এবং পরে কিভাবে পালিয়েছেন সেটিও বেরিয়ে এসেছে ওই সাক্ষাৎকারে, 

ওই ভিডিওতে ওবায়দুল কাদের ৫ আগস্ট এর উত্তাল দিনের কথা জানিয়ে বলেন, সংসদ এলাকার আমার নিজের ভাষাকে এড়িয়ে পার্শ্ববর্তী আরেকটা বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন চারিদিক থেকে মিছিল আসছিল, এটা আসলে ছিল প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) গণভবন কেন্দ্রিক, আমি যে বাসাটাই ছিলাম, তারা সে বাসাতে ও হামলা করে, তারা জানতো না, যে সেখানে আমি আছি, 

ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, আমি আমার স্ত্রী সহ বাথরুমে লুকিয়ে ছিলাম, অনেকক্ষণ ছিলাম, প্রায় ৫ ঘন্টা, তারপর একটা পর্যায়ে তারা বাথরুমে ভেতরেও কমোট বেসিন এগুলো লুটপাট করছে, আমার স্ত্রী তখন বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি বারবার বলছিলেন যে আমি অসুস্থ, যাতে করে তাদের প্রবেশ ঠেকানো যায়, কিন্তু তারা জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকার হুমকি দিতে থাকে, বাথরুমে কি আছে তা লুট করতে চাই, এই অবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কি করব, আমি বললাম দরজা খুলে দাও, 

ওবায়দুল কাদেরের ভাসায়, এরপর ৭-৮ জন যুবক ভেতরে ঢোকে এবং তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আচরণ করতে থাকে, হঠাৎ তারা আমার দিকে তাকিয়ে বলে, নেত্রী চলে গেলেন, আপনি যাননি কেন, আমি তখন কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এর মাঝেই তারা আচরণ পাল্টে ফেলে, কেউ একজন বলে, আপনার ছবি তুলব, তারপর শুরু হয় ছবি তোলা, কেউ কেউ সেলফি ও নেয়, ধারণা করি এদের মধ্যে অনেকেই আমাকে চিনতো 

তিনি জানান, ঠিক কি কারণে প্রথমে তাদের মধ্য এত আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল, আর কেন হঠাৎ করে সেই আচরণ শীতল হয়ে গেল তা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি, আচমকাই তারা ঠান্ডা মাথায় কথা বলা শুরু করে, তাদের মধ্যেই একটা গ্রুপ তখন চাইছিল তাকে রাস্তায় নামিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে, আবার কেউ কেউ চেয়েছিল জনতার হাতে তুলে দিতে, এই পরিস্থিতি তার মনে গভীর চাপ ও মানসিক ভাঙ্গন সৃষ্টি করে, এরপর তারা তাকে একটি শাট লাল পতাকা সংবলিত ব্যাচ এবং মুখে কালো মার্ক্স পড়িয়ে সংসদ এলাকা থেকে গণভবন অভিমুখী বড় রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যায়, হঠাৎ কোথা থেকে একটি খালি ট্যাক্সি বা ইজিবাইক এসে হাজির হয়, সেই মুহূর্তে রাস্তার কোন গাড়ি ছিল না, তিনি মনে করেন এটি হয়তো তার ভাগ্যের বিষয় ছিল, 
এক প্রশ্নের জবাবে স্বৈরাচার হাসিনার অন্যতম এই সহযোগী বলেন, তাদের মধ্যেও দুজন তাকে ও তার স্ত্রীকে সেই গাড়িতে তোলে এবং পথে যেতে যেতে চারপাশের যে পোস্ট ও লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলে চাচা চাচি অসুস্থ হাসপাতালে নিচ্ছি বিরক্ত করবেন না, এই ভাবেই তারা তাকে অনেক দূরে একটি জায়গায় নিয়ে যায়, 
তিনি বলেন ভাবতেও পারিনি যে যারা কয়েক মিনিট আগে বাথরুমে জোর করে ঢুকেছিল তারাই আমাদের এভাবে রক্ষা করবে, সেদিন বেঁচে যাওয়া ছিল একেবারে অপ্রত্যাশিত, এটা ছিল পরম সৌভাগ্যর ব্যাপার এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,
তবে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও পরবর্তী তিন মাস দেশেই ছিলনা, ওবায়দুল কাদের, ফন্দি আটকে ছিলেন দেশের শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার,


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ