এনামুল হক রাশেদী | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন ডি.সি. — খাদের কিনারা থেকে ফিরে এল মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে ইরানের সাথে সম্ভাব্য একটি প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহের এক নাটকীয় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই সমঝোতা তাকে তাৎক্ষণিক সামরিক সংকট থেকে মুক্তি দিলেও, বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাকে বড় ধরনের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত মঙ্গলবার সকালেও পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সমঝোতা না হলে কয়েক হাজার বছরের পুরনো ইরানি সভ্যতাকে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টার মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি।
তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র ৮৮ মিনিট আগে, সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত’ শান্তি চুক্তির পথে অনেক দূর এগিয়েছে এবং আলোচনার স্বার্থেই এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি।
যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক শর্ত হিসেবে ইরানকে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। যদিও ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই জলপথের ওপর তাদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় থাকবে।
"আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে।" — ট্রাম্পের এই চরম উস্কানিমূলক মন্তব্য তাকে এক কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়েছিল। হয় তাকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে হতো, নতুবা নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তিনি দ্বিতীয়টিই বেছে নিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সাথে সাথেই বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে:
তবে আগামী ১৪ দিন হবে অগ্নিপরীক্ষা। দুই দেশ স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকির কঠোর সমালোচনা হচ্ছে খোদ ওয়াশিংটনে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়্যিদ আব্বাস আরগাছি জানিয়েছেন, তারা আপাতত ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ স্থগিত রাখছেন। তবে তার দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের মূল কাঠামো মেনে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে:
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং হুতি বিদ্রোহীদের ওপর তেহরানের প্রভাবের মতো মৌলিক ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত। ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি করতে পারবেন, নাকি এই দুই সপ্তাহ কেবল আরও বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস—তা দেখতে মুখিয়ে আছে বিশ্ববাসী।
আপনার মতামত লিখুন :