ভূয়া জুলাইযোদ্ধা ফয়ছলের বিরুদ্ধে সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগ


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

 ভূয়া জুলাইযোদ্ধা ফয়ছলের বিরুদ্ধে সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগ
___________________________



সুনামগঞ্জে এ ক্যাটাগরির ‘ভূয়া জুলাইযোদ্ধা’ ফয়ছল আহমদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় জুলাইযোদ্ধাদের অভিযোগে বলা হয়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোক গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুস ছালামের পুত্র ফয়ছল আহমদ তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করে “এ ক্যাটাগরির জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে গেজেট নং ৪৭৯, মেডিকেল কেস আইডি নং ২৬৪০১-এ নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার স্থায়ী ঠিকানা জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের খাসিলা গ্রামে।

তালিকাভুক্তির আগে তিনি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামে মামার বাড়িতে অবস্থান করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও বিতর্ক

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফয়ছল আহমদ একজন পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা। তাঁর পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবুল কালাম গ্রুপের সমর্থক। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশের মাধ্যমে তিনি জাল কাগজপত্র তৈরি করে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

ফয়ছলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক” পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও হাসপাতালে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সুবিধা আদায় করেছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আহত জুলাইযোদ্ধা অনুদান হিসেবে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকায় হামলা ও নাটকীয় মোড়

অভিযোগে বলা হয়, ফয়ছল আহমদ ঢাকার উত্তরায় একটি থাই গ্লাস/সিরামিকসের দোকানে কাজ করতেন। আন্দোলনের সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে মিলে ছাত্রদের ওপর হামলায় অংশ নেন। পাল্টা হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরে পরিচয় গোপন করে সুনামগঞ্জে ফিরে আসেন। এরপর নিজেকে জুলাইযোদ্ধা ও ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

লন্ডন পালানোর প্রস্তুতি

অভিযোগকারীদের দাবি, ফয়ছল বর্তমানে ধরা পড়ার আশঙ্কায় লন্ডনে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস থেকে জেলা প্রশাসকের নাম ব্যবহার করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

প্রশাসন ও অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ফয়ছল আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

> “আমি ঢাকার উত্তরায় আহত হয়েছি, স্থানীয়রা জানে না বলেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।”



তবে তিনি অঙ্গহানী না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ‘এ ক্যাটাগরির’ জুলাইযোদ্ধা হলেন — এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।

অভিযোগের বর্তমান অবস্থা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে গত ৬ অক্টোবর, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ২৩ অক্টোবর এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে ১৯ আগস্ট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ফয়ছল আহমদকে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন কমিটি, সুনামগঞ্জ” এর সদস্য পদ থেকে বাতিল ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।



ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ