ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার টাকা ও সোনা নিয়ে পুত্রবধূকে নিয়ে ‘লাপাত্তা’ ছাত্রদল নেতা


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ নগরীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ক্যানসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত শয্যাশায়ী মায়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের সহায়তায় ও ঋণ করে জমানো দেড় লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে পুত্রবধূকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীর স্বামী মো. সোলেমান মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম কামাল আহমেদ তানভীর। এছাড়া অভিযোগে তার বাবা হারুন অর রশিদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সতেরহাতি এলাকার মো. রমজান আলীর মেয়ে সোফিয়া আক্তার নূপুরের সঙ্গে মো. সোলেমান মিয়ার ছেলে মো. শান্ত মিয়ার বিয়ে হয়। শান্ত মিয়া ঢাকায় চাকরি করায় সুবাদে অধিকাংশ সময় সেখানেই অবস্থান করতেন। এই সুযোগে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা কামাল আহমেদ তানভীর প্রায়ই শান্ত মিয়ার স্ত্রী সোফিয়া আক্তার নূপুরকে কুপ্রস্তাব ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্তপ্ত ও বিরক্ত করতেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার থেকে নূপুরকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি।

​এদিকে ভুক্তভোগী সোলেমান মিয়া জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসার্থে বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ ও মানুষের সহায়তায় সংগ্রহ করা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুত্রবধূ নূপুরের কাছে রাখা হয়েছিল।

​গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের দিকে পরিবারের সদস্যরা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন নূপুর ঘরে নেই। একই সঙ্গে তার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসার নগদ দেড় লাখ টাকা এবং সোলেমানের ১০ বছর বয়সী মেয়ের ৮ আনা ওজনের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানের দুলও উধাও।

​পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা কামাল আহমেদ তানভীরের সঙ্গে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন নূপুর এবং এই কাজে তানভীরের বাবা হারুন অর রশিদ সহযোগিতা করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত তানভীরের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নূপুরের বাবার বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

​সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় পরিবারটি শঙ্কা প্রকাশ করছে যে, পুত্রবধূকে কোথাও আটকে রেখে তার বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

​এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ