তাহিরপুরে বালু নিতে বাধা, জামাল মিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হুমকির অভিযান
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
তাহিরপুরে বালু নিতে বাধা, জামাল মিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হুমকির অভিযান
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতীরবর্তী ঢালারপাড় গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার পুত্র মোঃ জামাল উদ্দিনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে জোরপূর্বক বালু নিতে বাধা দেওয়ায় তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ মোবাইলে হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এতে করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউর মৌজায় জামাল মিয়ার পৈতৃক ৪০ কেদার পতিত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে বালু জমা রয়েছে। ওই বালু মহাল থেকে একই ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটি গ্রামের ছিদ্দু মিয়ার ছেলে বোরহান, তরং গ্রামের মৃত আব্দুল ছত্তারের ছেলে বেলায়েত ও উজ্জল মিয়া মিলে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে জামাল মিয়া বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলায়েত মিয়া বাদী হয়ে জামাল মিয়া ও তার ছেলে আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত উজ্জল মিয়া নিজেকে তাহিরপুর থানার ওসির চালক পরিচয় দিয়ে আলমগীর হোসেনকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও টাকা দেওয়ার হুমকি দেন। এভাবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, উজ্জল মিয়া বলেছিলেন— “থানায় টাকা দিলে পুলিশ জায়গা নিয়ে আর ঝামেলা করবে না।”
জামাল মিয়া বলেন, “আমাদের এই জায়গাটি প্রায় ৫০ বছর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমানের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। তখন থেকে আমরা ভোগদখলে আছি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বোরহান, বেলায়েত ও উজ্জল মিয়া এটিকে নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে জোরপূর্বক বালু তুলতে চাচ্ছে। আমরা বাধা দিলে তারা হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।”
এদিকে শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, জায়গাটির মালিকানা জামাল মিয়ার পরিবারের এবং দীর্ঘদিন তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে দখল নেয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযুক্ত উজ্জল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পুলিশের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনের লাইন কেটে দেন। বেলায়েত মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ দিলোয়ার হোসেন বলেন, “উজ্জল মিয়া আমাদের কেউ নন। সে যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
আপনার মতামত লিখুন :