বীরমুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম সাংবাদিক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা কাদেরী শওকতের জীবনী সমৃদ্ধ নানা অর্জনে পরিপূর্ণ
বিশিষ্ট সাংবাদিক, সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজে তার দীর্ঘদিনের অবদান, সাহসী সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সম্পাদক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়েছে। সাংবাদিক পরিষদের মনোনীত প্রধান উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ১৯৬৯ সালে সাংবাদিকতা ও ১৯৬৪ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনীতিতে আসেন।
তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার আগে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টার ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে ইত্তেহাদ, ডেইলি ট্রিবিউন, দৈনিক নয়াবাংলাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১৭ আগস্ট তার সম্পাদনায় চট্টগ্রাম থেকে ইজতিহাদ পত্রিকা প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে এবং পরবর্তীতে আদালতের রায়ে পুনরায় প্রকাশের অনুমতি পায়।
মুক্তিযোদ্ধা-সম্পাদক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম সংবাদপত্র পরিষদ ও চিটাগাং এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, পূর্বাঞ্চলীয় সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ সম্পাদক সমিতির আহ্বায়ক এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিলস (WAPC)-এর নির্বাহী সদস্য ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, প্রেস জুডিশিয়াল ও প্রেস রুলস কমিটির সদস্য (২০০২-২০০৬), বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)-এর সহ-সভাপতি (২০০২-২০০৩), বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (১৯৮৮-১৯৯১) ছিলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, একুশে উৎসব পরিষদ ও চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মাননা পেয়েছেন। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা তাকে ‘মানিক মিয়া স্মৃতি পদক’ প্রদান করে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। ২০০৪ সালের তানজানিয়া ও ২০০৬ সালের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিলসের সম্মেলনে তার রিপোর্ট শ্রেষ্ঠ রিপোর্ট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভারতের জাতীয় প্রেস ডে উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনিয়রে তার লেখা দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, যেখানে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালাম, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের লেখা ছাপা হয়েছিল।
সম্পাদক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে হাটহাজারী-ফটিকা অঞ্চলের মুক্তিবাহিনী (বিএলএফ) প্রধান ছিলেন।
পারিবারিকভাবে তিনি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের উত্তরসূরি। তার পিতা মরহুম আবদুল লতিফ উকিল ছিলেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির প্রথম মুসলিম সভাপতি ও আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছোট ভাই ছিলেন বিশিষ্ট নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. এল. এ. কাদেরী।
স্ত্রী শেখ আফসানা কাদেরী ইজতিহাদ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, পুত্র শিহাব কাদেরী সহযোগী সম্পাদক ও কন্যা সামিনা কাদেরী। তিনি ১৯৯৬ সালে পবিত্র হজব্রত পালন করেন।
চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহল এই মনোনয়নে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
প্রকাশকাল: ০৪ নভেম্বর ২০২৫
প্রতিবেদক: সালিম চৌধুরী, পটিয়া প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন :