নিজস্ব প্রতিবেদক |ক্রাইম নিউজ |ঢাকা
পরিবহন সেবার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ভয়াবহ নিয়োগ বাণিজ্য এবং চরম আইন লঙ্ঘনের এক নগ্ন চিত্র বেরিয়ে এসেছে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস’ নামক পরিবহন কোম্পানির বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির বহরে থাকা ছয়টি গাড়িকে কেন্দ্র করে মাদক পাচার, চাকরিপ্রার্থীদের সাথে প্রতারণা এবং বিআরটিএ-এর অনুমোদনহীন গাড়ি পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুমোদনহীন ছয় বাসের মরণযাত্রা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস’ কোম্পানির বহরে বর্তমানে ছয়টি বাস চলাচল করছে। এই ছয়টি গাড়ির কোনোটিরই নেই বিআরটিএ-এর বৈধ কাগজপত্র বা ফিটনেস সার্টিফিকেট। বিশেষ করে তাদের স্লিপার ও বিজনেস ক্লাস কোচগুলোর বিআরটিএ-এর কোনো অনুমোদন নেই। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এবং কোনো প্রকার বৈধ নথিপত্র ছাড়াই এই ছয়টি গাড়ি মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে যাত্রী পরিবহন করছে, যা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভোররাতেই ইয়াবার উৎসব ও নেশার ঘোরে গাড়ি চালানো
এই ছয়টি বাসের চালক ও সহকারীরা কেবল মাদক পাচারকারী নয়, বরং নিজেরাই ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত। কক্সবাজার থেকে আসা বা যাওয়ার পথে প্রতিদিন ভোরবেলা তারা ইয়াবা সংগ্রহ করে এবং বাসের ভেতরেই প্রকাশ্য নেশায় মত্ত থাকে। ড্রাইভিং সিটের আশেপাশে কৌশলে ইয়াবা লুকিয়ে রেখে তারা বাসগুলোকে মাদক পাচারের নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সহায়ক হচ্ছে।
নিয়োগ বাণিজ্যের নতুন ফাঁদ
মাদক ও অবৈধ পরিবহন ব্যবসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারণার অভিযোগও এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার পর কিছুদিন ‘ট্রায়াল’ ডিউটি দিয়ে অচিরেই বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাতে তাদের কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই ছয়টি গাড়ি পরিচালনার অন্তরালে গড়ে ওঠা এই নিয়োগ বাণিজ্য শত শত তরুণের স্বপ্নকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবহন খাতের এই অশুভ তৎপরতা এবং দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এই চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। গোয়েন্দা সংস্থা, হাইওয়ে পুলিশ এবং বিআরটিএ-এর কাছে অনুরোধ—‘প্রবাসী এক্সপ্রেস’-এর এই ছয়টি বাসে অবিলম্বে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হোক এবং কোম্পানিটির সকল গাড়ির বৈধতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা যাচাই করা হোক।
নেশাগ্রস্ত চালক-সহকারীদের চিহ্নিত করে লাইসেন্স বাতিল, অনুমোদনহীন ছয়টি বাস জব্দ এবং প্রতারণার দায়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনতিবিলম্বে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে
আপনার মতামত লিখুন :