এসএম জামাল, এয়ারপোর্ট, ঢাকা :
বাংলাদেশ রেলওয়ের এয়ারপোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত রেললাইনের উভয় পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের ওপর গড়ে ওঠা দোকানপাট, ফলের দোকান ও রিক্সার গ্যারেজসহ নানা স্থাপনা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মদদে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই দখলদারিত্বের আড়ালে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কিছু নেতা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করতেন। সেই সাথে, সন্ধ্যার পর থেকে রেললাইনের ওপর অবাধে গাঁজা ব্যবসা ও সেবনসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল, যা সাধারণ মানুষের জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ নাসির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই স্বপন ও লিয়াকতের নেতৃত্বে রেলওয়ে পুলিশের একটি চৌকস টিম ইতোমধ্যে এলাকাটি পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে সকল অবৈধ দখলদারদের এলাকাটি পরিষ্কার করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যারা নিজ উদ্যোগে দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ও বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। কর্তৃপক্ষের সাফ কথা—রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের এই দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং মাদককেন্দ্রিক অপরাধের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে এলাকায় চলাচলের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে। এলাকাবাসীর এখন প্রত্যাশা, উচ্ছেদ অভিযানের পর এই এলাকাটি যেন পুনরায় দখল না হতে পারে এবং প্রশাসন যেন নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে এলাকাটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত রাখে।
আপনার মতামত লিখুন :