দেশের বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে ডিজিএফআই (DGFI) ও এনএসআই (NSI)-এর মতো সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে DGFI ও NSI কর্মকর্তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ ও ফলাফল প্রভাবিত করতে এই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হয়। (সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস)
আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের অনুকূলে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। (সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)
মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধী দল, সমালোচক এবং সাধারণ নাগরিকদের বেআইনিভাবে আটক, গুম ও নির্যাতনের সাথে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টতা ছিল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকা অনেক ব্যক্তির হদিস এখনো মেলেনি, যা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। (সূত্র: প্রথম আলো)
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রভাব শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা আর্থিক ও গণমাধ্যম খাতেও বিস্তৃত হয়েছিল। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় DGFI-এর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়াও ব্যবসায়িক ও মিডিয়া হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটিকে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। (সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)
একটি স্বাধীন তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে DGFI-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা তার পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সরকারের পক্ষে কাজ করার ফলে সংস্থাটির মর্যাদা ও জনগণের আস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
দাবিত্যাগ: উল্লিখিত বিষয়গুলো বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি। এসব অভিযোগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও গভীর তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :