ধামরাইয়ে মা ও দুই ছেলে হত্যার রহস্য উন্মোচন
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
সাইদুর রহমান (রুবেল মোল্লা)
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি :
ঢাকার ধামরাই বসতঘর থেকে মা ও দুই ছেলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। সংস্থাটির দাবি প্রয়াত শুশুরের রেখে যাওয়া ডেকোরেটরের ব্যাবসার দেখবাল নিয়ে পারিবারিক কহলের জেরে বালিশ চাপা দিয়ে তিনজন কে হত্যা করে মেয়ের জামাই রবিন (২২)। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্প্রতিবার (৫ জুন) দুপুরের দিকে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবি আই) ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই- খুদা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান।
গত (২ জুন) বিকেলের দিকে উপজেলা গাংগুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রাম থেকে মা সহ দুই ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় গত (৪জুন) মৃতের ভাই মোঃআঃ রশিদ (৪২) বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা (নম্বর -০৫) করেন।
গ্রেপ্তার রবিন ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের।
নিহত নার্গিস আক্তার (৩৭) তার দুই ছেলে শামীম (২২) ও সুলাইমান (৮)। বড় ছেলে শামীম ডেকোরেটরের কাজ করতেন ও ছোট ছেলে সোলাইমান মায়ের কাছে থাকতেন।
মামলার এজাহারে বলা হয় গত (১ জুন) রাত ৯ টা থেকে দুপুর ২ টার দিকে অজ্ঞাত আসামি পরিবারটির বসত ঘরের টিনের বেড়ার দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে পরিকল্পিত ভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ খাটের উপর শুইয়ে রেখে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে চলে যায়।
থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পিবিআই ঢাকা জেলা। এর ধারাবাহিকতায় মেয়ের জামাই রবিন হত্যায় জড়িত রয়েছে, এমন তথ্য উঠে আসে। এর জেরে গত (৪ জুন) ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়নের মধুডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিন কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনিই হত্যায় জড়িতের বিষয়ে তথ্য দেন।
রবিনের বরাত দিয়ে পিবিআই এর দাবি, গত (১ জুন) রাত সাড়ে ১১ টা থেকে ভোর ৪ টার মধ্যে ওই বাড়ির টিনের বেড়ার দরজা খুলে ঘরে ঢুকে প্রথমে বড় শ্যালক শামীম কে খাটের পাশে শোয়া দেখে তার মুখের উপর বালিশ চাপা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এর পর শাশুড়ি নারগিস ও সুলাইমান কে আরেক খাটে শুয়া দেখে একই ভাবে বালিশ চাপা দিয়ে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে শুইয়ে কাঁথা দিয়ে ঢেকে ভোর ৪ টার দিকে নিজের বাড়ি ফিরে আসে।
এদিকে পর দিন সকাল থেকে নার্গিসের মেয়ে নাসরিন তার মাকে ফোন করতে থাকে। তবে তারা ফোন রিসিভ না করায় দুপুর দুইটার দিকে তিনি মায়ের বাড়ি আসে। ঘরে ঢুকে দেখতে পায়, তার মা ও দুই ভাই মৃত অবস্থায় কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
পিবিআই দাবি, মূলত এক বছর আগে মারা যাওয়া শুশুর রাজা মিয়ার ব্যাবসা দেখাশোনা নিয়ে তৈরী হওয়া পারিবারিক কহলের জেরে শাশুড়ি ও দুই শ্যালককে হত্যা করে রবিন।
আপনার মতামত লিখুন :