সৌদিতে শতাধিক প্রবাসীর বেতন আত্মসাৎ: গোপালগঞ্জের মামুন ওরফে সাগর


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার, 
বিশেষ প্রতিনিধি:



সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশের শতাধিক প্রবাসীর কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক রয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া গ্রামের হান্নান শেখের ছেলে মামুন শেখ, যার ছদ্মনাম সাগর ওরফে আব্দুল্লাহ। তিনি সৌদি আরবে AGC ও ACT নামের দুটি সাপ্লায়ার কোম্পানির পরিচালক পরিচয়ে দেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের ব্যবস্থা করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অভিযোগ, মামুন ওরফে সাগর বিভিন্ন জায়গা থেকে সৌদিতে আসা প্রায় ১০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশির ৩ মাস থেকে ৫ মাস পর্যন্ত বেতন তুলে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩ কোটি টাকার মতো আত্মসাৎ করেছেন তিনি। বর্তমানে ওই প্রবাসীরা খাদ্য ও বাসা ভাড়া সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সৌদি আরব থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় ভুক্তভোগীরা জানান, বেতন না পেয়ে তারা পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে ভাড়া ও খরচ চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে ইতোমধ্যে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, কিন্তু বিমানভাড়ার টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না।

গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বেদগ্রামের রায়হান হোসেন, শফিকুল ইসলামসহ টুঙ্গিপাড়ার হানিফ শেখ, বাশবাড়িয়ার তুহিন, রাজবাড়ির রেজাউল মল্লিক, এমনকি নারায়ণগঞ্জের আরও অনেক প্রবাসী মামুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

এক ভুক্তভোগী বলেন,

“আমি রিয়াদের একটি সোলার প্লান্টে AGC সাপ্লায়ারের মাধ্যমে চাকরি করি। তিন মাস কাজ করার পর বেতন চাইলে মামুন বলে ‘তোদের পেটে ভাতে খাটিয়েছি, তোদের কোনো আকামা নাই’। এরপর আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন হাতে খাবারের টাকা নেই, বাসায় ফেরার টাকাও নেই।”

আরেকজন বলেন,

“আমরা বেতন না পেয়ে দেশ থেকে টাকা এনে ভাড়া দিচ্ছি, না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। অথচ মামুন বাংলাদেশে বসে আমাদের কষ্টের টাকায় ব্যবসা করছে, তার বোন জামাই আল-আমিন (সোহেল) ঢাকায় কাপড়ের ব্যবসা করছেন, স্ত্রী রিতু, ভাই সোহাগ, এবং শ্বশুর মনির মোল্লাও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।”

ভুক্তভোগীরা মামুনের পাসপোর্ট নম্বর (EM0326785) ও পরিচয় প্রকাশ করে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। মামুন পাসপোর্টে ঠিকানা দিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ—যদিও তার স্থায়ী ঠিকানা সদর উপজেলার নিজড়া গ্রামে।

প্রবাসীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,

“আমরা বিদেশে কষ্ট করে টাকা রোজগার করতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছি। এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরতের ব্যবস্থা চাই।”


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ