অস্ত্র চক্রের মাস্টারমাইন্ড অজুফা বেগম এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা, দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

অস্ত্র চক্রের মাস্টারমাইন্ড অজুফা বেগম এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা, দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি
_______________________________


কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার এবং এক যুবক গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পলাতক আসামি অজুফা বেগম (৩১) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র চক্র পরিচালনা করতেন।

গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ৯ ইস্ট বেঙ্গল, কক্সবাজার-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উদ্ধার হয় ২টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (দৈর্ঘ্য: ১৪.৫ এবং ১২.৫ ইঞ্চি) এবং ২টি ব্যবহারযোগ্য কার্তুজ। অভিযানে ধরা পড়ে মারুফ হাসান তাহসিন (২৬), যাকে পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মারুফ হাসান তাহসিনের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করা হয়েছে, পলাতক অজুফা বেগম তাকে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিক ফরহাদকে (২৬) অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় এই ষড়যন্ত্র ধ্বংস হয়।

অভিযানের পর থেকে অজুফা বেগম এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অজুফা বেগম তার ভাড়া বাসায় ফাতু নামের রোহিঙ্গা নারীকেও ব্যবহার করতেন ইয়াবা ও গাজা বিক্রি করার জন্য। সেখানে সারারাত মাদক বিক্রি করা হতো।

স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, রাতের অন্ধকারে ওই বাসা যেনো মাদকপল্লি। যুবসমাজ এখানে প্রলুব্ধ হচ্ছে, আমাদের সমাজ ধ্বংসের মুখে।

জানা গেছে, অজুফা বেগমের প্রবাসী স্বামী ইয়াকুব আলী টেকনাফ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক এনে দক্ষিণ ডিককুলে সরবরাহের পুরো চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যোগসাজেশে অজুফা বেগম নির্বিঘ্নে চক্র পরিচালনা করতেন।

এছাড়া, তিনি এলাকার নীরীহ মানুষদের মামলা দিয়ে হয়রানি, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা, দখলবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন এবং এলাকায় নীরব আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।

অস্ত্র মামলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অজুফা বেগম এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ ডিককুলে সাময়িকভাবে শান্তি বিরাজ করছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক চক্র এবং অজুফা বেগমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে।

অজুফা বেগম ও তার প্রবাসী স্বামী ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে দক্ষিণ ডিককুলে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের নেপথ্য রহস্য উন্মোচিত হওয়ায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনমতের চাপে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ আশা করা যাচ্ছে।

লোকমান ইসলাম রানা 
কক্সবাজার প্রতিনিধি


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ