বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলায় থেমে নেই বাল্যবিবাহ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলায় থেমে নেই বাল্যবিবাহ
_________________________________
২০১৭ সালে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত কালীগঞ্জ উপজেলায় থেমে নেই বাল্যবিবাহ। প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলেও তদারকির জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নেই কোন ভূমিকা। শনিবার ( ২৫ অক্টোবর) বেলা ৩ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে এক বিয়ে পরবর্তী ভোজ অনুষ্ঠানে হানা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খান বর, কনে পক্ষের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।
উজিরপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের কন্যা মাদ্রাসায় পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী হুমাইয়ারা আনজুর সঙ্গে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্রহ্মকাটি গ্রামের রফিকুল ইসলামের অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্র আব্দুল্লাহ আল রাফিল সঙ্গে গোপনে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর ) বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবারে ( ২৫ অক্টোবর) দুপুরের পরে বিয়ের খাওয়া দাওয়ার অনুষ্ঠানে বেরসিক পুলিশ আসামি ধরার জন্য হাজির হলে এই বিপত্তি ঘটে। পরে পুলিশের খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান উপস্থিত হয়ে উক্ত বিয়ে বন্ধ এবং বাল্যবিবাহ নীরোধ আইন ২০১৭ এর ৯ ধারায় কন্যা পক্ষকে ২০ হাজার এবং বর পক্ষকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও বিয়ে পড়ানো রেজিস্টারের /কাজীর কোন খোঁজ মেলেনি। পরে শর্ত সাপেক্ষে কন্যা ১৮ এবং ছেলে ২১ বছর না হলে বিয়ে দিবে না এইভাবে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপরও এই নব দম্পতি তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাবে? না সংসার জীবন পাড়ি দিবে এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। এভাবে উপজেলা জুড়ে ১২টি ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহ কার্যক্রম চলে আসলেও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে কোন তথ্য দিলে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ছাড়া আর কোন ভূমিকার খোঁজ মেলে নাই। শুধুমাত্র এ সংক্রান্ত কোন সভা সমাবেশ, বৈঠক,কর্মশালা বা অনুষ্ঠান দায় সারা ভাবে প্রতিনিয়ত মুখ চেনা কিছু লোক দিয়ে সরকারি অর্থ অপচয় ছাড়া প্রচার প্রসার ঘটেনা।
বিষয়টি নিয়ে তথাকথিত কিছু অনলাইন ও দু, একটি পত্রিকায় ফটো সেশানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও উপজেলা জুড়ে এর কোন প্রচার , প্রসার ঘটেনা। বাল্যবিবাহ বন্ধ এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অরনা চক্রবর্তীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বাল্যবিবাহের কোন তথ্য আছে কিনা এ প্রতিনিধির নিকট জানতে চান। তবে শুক্র, শনিবারের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই অবগত নন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাধারণ মানুষের কোন উপস্থিতি থাকে কিনা এ বিষয়ে কোন সদুত্তর মেলেনি।
হাফিজুর রহমান
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
আপনার মতামত লিখুন :