তথ্য-প্রমাণহীন অপপ্রচারে বিপর্যস্ত ঈদগাঁও প্রশাসন: ৬ মাসে ৩ ইউএনও বদলি


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঈদগাঁও

​কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। তথ্য-প্রমাণহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফটোকার্ড প্রকাশ এবং মানহানিকর অভিযোগ ছড়ানোর প্রবণতা এখানে চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অনৈতিক দাবি পূরণ না হলেই ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের। এতে একদিকে যেমন কর্মকর্তারা কর্মস্পৃহা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে উপজেলার সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

​জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘নাটকীয়’ অভিযোগ

​সর্বশেষ ঘটনার শিকার হয়েছেন ঈদগাঁও থানার এক জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা। গত রোববার (২৮ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেকুন্নাহার নামের এক নারীর কান্নাজড়িত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।

​তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগকারী সাবেকুন্নাহার (২৫) অনলাইন জিডি করলেও এর সপক্ষে কোনো অডিও রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা ন্যূনতম দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই একটি মহল অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ওপর মহলে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আইনগত বাধ্যবাধকতায় তা সম্ভব না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

​সাবেকুন্নাহারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বাবা সৈয়দ করিম ও ভাই ইসলাম স্পষ্ট জানান, এই বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, ওই নারী এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য নাঈমুল ইসলাম বলেন, “তিনি এলাকার কেউ নন, ভাড়া বাসায় থাকেন। তাকে ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মিশনে নেমেছে।”

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেকুন্নাহারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

​গণ-বদলি ও প্রশাসনিক স্থবিরতা


​অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে কর্মকর্তারা এখানে টিকতে পারছেন না। তথ্যমতে, গত ৬ মাসে ৩ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলি হয়েছেন। নবাগত ইউএনও যোগদানের এক মাস পার না হতেই বদলি হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে। এছাড়া পিআইও ও নির্বাচন কর্মকর্তাও সম্প্রতি বদলি হয়েছেন।

​বর্তমানে ঈদগাঁও উপজেলার কৃষি, সমাজসেবা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), এলজিইডি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, বিষাক্ত কর্ম পরিবেশ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেই দক্ষ কর্মকর্তারা এই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

​প্রশাসন ও সচেতন মহলের ক্ষোভ

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফেসবুক ট্রায়াল’ দিয়ে কর্মকর্তাদের হেনস্তা করার সংস্কৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আতিকুর রহমান মানিক বলেন, “ঈদগাঁও কি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আতঙ্কের পোস্টিংয়ে পরিণত হচ্ছে? এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কোনো সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা এখানে দায়িত্ব নিতে চাইবেন না।”

​সার্বিক বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিয়ে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পথ বেছে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

​একটি নবগঠিত উপজেলার টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন প্রশাসনিক নেতৃত্ব। সাবেকুন্নাহারের মতো ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং পর্দার আড়াল থেকে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ