সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা, সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নওগাঁ আদালতে একটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
মামলার বাদী নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি অভিযোগ করেন, পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কারণে তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে তিনি নওগাঁর মুখ্য আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের বক্তব্য
মামলার বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এম এ মমিন আনসারী বলেন:
- তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন: সংবাদটি কোনোভাবেই ভিত্তিহীন নয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই-বাছাই, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণের পরই তা জনস্বার্থে প্রকাশ করা হয়েছে।
- তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত: বাদীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্বপক্ষে যাবতীয় নথিপত্র ও অডিও-ভিডিও প্রমাণ পত্রিকার দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে।
- হয়রানির অপচেষ্টা: দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় এই মামলা করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে সত্য অনুসন্ধানের কণ্ঠরোধের একটি আইনি হয়রানি।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে। তবে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের এভাবে হয়রানি করা দেশের গণতন্ত্র ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের জন্য অশনিসংকেত।”
সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করা উচিত ছিল। আইনি হয়রানির এই প্রবণতা দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সচেতন মহলের মতে, আদালতের মাধ্যমেই এই বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
আপনার মতামত লিখুন :