বিশেষ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জে তিন হত্যা ও মাদক মামলার আসামি ওমর আলীর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা স্থানীয় জনমনে শুধু বিস্ময় নয়, বরং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। একজন চিহ্নিত অপরাধী, যার বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে, তার প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আইনের শাসনের প্রতি এক ধরনের উপহাস।
বাংলাদেশের সংবিধানে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আইনে কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (Representation of the People Order, 1972) এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী একজন প্রার্থী কখন নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
ওমর আলীর মতো অপরাধীদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কেবল আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসার সুযোগ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোকে কলুষিত করার চেষ্টা। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবিলম্বে যা করা প্রয়োজন:
১. সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার: হত্যা ও মাদক মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
২. নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা: নির্বাচন কমিশনকে প্রতিটি প্রার্থীর হলফনামা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করতে হবে। তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
৩. জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: অপরাধীরা যখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার সাহস দেখায়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়। সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বন করতে হবে।
জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা কেবল আইন দ্বারা নির্ধারিত নয়, বরং এটি নৈতিকতার মাপকাঠিতেও উত্তীর্ণ হতে হয়। একজন রক্তপিপাসু ও মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা আইনি প্রক্রিয়ায় জেলখানায় হওয়া উচিত, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই অপরাধীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ রোধে অবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :