অনৈতিক প্রস্তাবের ক্ষোভ: ফতুল্লায় ব্যবসায়ী হারুনকে ‘চায়ের সাথে ১০ ঘুমের বড়ি’ খাইয়ে হত্যা, গ্রেফতার ২


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী হারুন খালাসী (৪৬) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ দুই শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডের পর লুটে নেওয়া নগদ ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা এবং নিহতের ব্যবহৃত ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।


​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— মোসাঃ মীম (২০) ও মোঃ রানা হোসেন (২৪)। তারা দুজনেই নিহতের কারখানার শ্রমিক ছিলেন। আদালতে আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


​চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ছিল?

​পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত হারুন খালাসী দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা খান সাহেব আলী ওসমানী স্টেডিয়াম সংলগ্ন বটগাছ তলার পাশে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে হোসিয়ারী কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ২৬ মে কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য তিনি নগদ টাকা অফিসে রাখেন।


​তদন্তে উঠে আসে, নিহত হারুন খালাসী কারখানার নারী শ্রমিকদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আসামি মীম ও মীমের বোন জিমের সাথেও দৈহিক মেলামেশার প্রস্তাব দেন। কিন্তু মীম বিবাহিত হওয়ায় এবং অপর আসামি রানা জিমকে ভালোবাসার কারণে তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এই ক্ষোভ থেকেই দুই আসামি মিলে হারুন খালাসীকে হত্যার সুপরিকল্পিত ছক আঁকেন।


​যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড

​পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসামিরা ব্যবসায়ী হারুন খালাসীকে চায়ের সাথে ১০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর কারখানার কাপড় বাঁধার গার্ডার (রশি) দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে লাশ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে, শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা লুট করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান তারা।


​বিকেলে পরিবারের সদস্যরা হারুনের মোবাইল থেকে একটি সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় খোঁজ নিতে যান। অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


​পুলিশের তৎপরতা ও আসামি গ্রেফতার

​ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৯৩, তারিখ-২৭/০৫/২০২৬ খ্রিঃ) দায়ের করেন।


​নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) জনাব মোঃ শামীম হোসেনের দিক-নির্দেশনায়, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ জহিরুল ইসলাম ও এসআই শামীম হোসেনের একটি আভিযানিক দল তদন্তে নামেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুটের ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ও নিহতের ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


​নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ