রাজশাহী-১ আসনে এমপির নির্দেশনা ঘিরে বিভ্রান্তির অভিযোগ


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

রাজশাহী-১ আসনে এমপির নির্দেশনা ঘিরে বিভ্রান্তির অভিযোগ
__________________________________


মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপনকে ঘিরে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গীতা পাঠ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, যিনি কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির, কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে মোবাইল ফোনে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী পালনের নির্দেশ দেন। তিনি বিশেষভাবে বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচলিত ধারা অনুসরণ না করে রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি বজায় রাখতে হবে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, এই নির্দেশনার প্রকৃত অর্থ না বুঝে বা আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করে একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে—গীতা পাঠ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইউএনও নাঈমা খান সাংবাদিকদের জানান, “এমপি স্যার আমাদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়মে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আমরা কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠও করেছি।”

এর আগে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সেখানে ইউএনও জানতে চান, এমপির নির্দেশনার প্রেক্ষিতে করণীয় কী হতে পারে।
জবাবে মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় নিয়মই অনুসরণ করা উচিত। সেখানে গীতা পাঠের প্রচলন থাকলে তা করাতে কোনো বাধা নেই।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান কখনোই গীতা পাঠে নিষেধাজ্ঞা দেননি। বরং তিনি জাতীয় সংসদের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়, সেটি অনুসরণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি মেনে অনুষ্ঠান করার কথাই তিনি বলেছেন।

এ বিষয়ে এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরো ঘটনাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি। তাদের ভাষ্য, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে তানোর-গোদাগাড়ী এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস থাকায় এমন নির্দেশনা বাস্তবসম্মত নয় বলেও তারা মনে করেন।
পর্যবেক্ষকরা আরও বলেন, অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় নিয়মে সম্পন্ন হওয়ার পরও এ ধরনের বিতর্ক তৈরি হওয়া অযৌক্তিক। অনেকের ধারণা, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করতেই এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী (তানোর):


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ