বিতর্কিত অতীত থেকে ক্ষমতার শীর্ষে—এক ব্যক্তির উত্থান-পতনের গল্প


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

বিতর্কিত অতীত থেকে ক্ষমতার শীর্ষে—এক ব্যক্তির উত্থান-পতনের গল্প
____________________________________


এক ব্যক্তির জীবনযাত্রা, যা শুরু হয়েছিল সাধারণ চাকরি থেকে, পরবর্তীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশ এবং নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার এক জটিল ও আলোচিত অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তিনি মূলত কোনো পেশাদার সেনা সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেননি। তার কর্মজীবনের শুরু ছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন ট্যালি ক্লার্ক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের গঠিত রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেন।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রিলিফ হিসেবে আসা নারিকেল তেল চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রির ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তবে এসব অভিযোগ এড়াতে তিনি রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হলে, এর সদস্যদের একটি অংশকে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় তিনিও সেনাবাহিনীতে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হন।

পরবর্তীতে পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমেও তার প্রভাব বিস্তার বৃদ্ধি পায় বলে জানা যায়। একসময় তিনি সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, যা ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে পরিচিত, সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ঘটনাতেও তার সক্রিয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করা হয় এবং দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত একটি জাতীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মেয়াদের পরও তাকে কয়েক বছর ওই পদে বহাল রাখা হয়। দেশে ফিরে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি ফেনী-৩ আসনে মনোনয়ন চাইলেও পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি তার অবস্থান হারান বলে জানা গেছে।

তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল এবং বিতর্কিত অতীত নিয়ে এখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ