সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পোলট্রি খাত ধ্বংসের পথে: বিপিএর ৭ দফা বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পোলট্রি খাত ধ্বংসের পথে: বিপিএর ৭ দফা বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম
__________________________
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে দেশের পোলট্রি খাত ‘ধ্বংসের পথে’ যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে সারা দেশে ডিম ও মুরগি উৎপাদনকারী খামারগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখা হবে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিপিএ এই ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সবচেয়ে বড় কৃষিভিত্তিক খাত পোলট্রি শিল্প আজ ভয়াবহ সংকটে, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ নারী ও ৬০ শতাংশ শিক্ষিত বেকার যুবক এই খাতের সঙ্গে যুক্ত।
সরকারের নীরবতা ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ
বিপিএর দাবি, সরকারের নীরবতা এবং কর্পোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে দেশের বাজারে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড উৎপাদনের মূল কাঁচামাল — সয়াবিন মিল, ভুট্টা, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন প্রিমিক্সের দাম টানা তিন বছর ধরে নিম্নমুখী।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, দেশে কয়েকটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া বাজার দখল করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এতে ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে, ফলে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিপিএর ৭ দফা দাবি
১ কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে ফিড, বাচ্চা, মেডিসিন ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করতে হবে।
২ কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩️ প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪️ ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত অডিট ও প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫ উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ১০ শতাংশ লাভ যুক্ত করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে।
৬️ ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ, প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিতে হবে।
৭️ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্ত ও কর্পোরেটপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিপিএর সতর্কবার্তা
বিপিএ নেতারা বলেন, সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে দেশের পোলট্রি শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে। প্রান্তিক খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও, এখন তারা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :