মোহনপুর উপজেলায় পান চাষীদের মনে হতাশার ছাপ


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মোহনপুর উপজেলায় পান চাষীদের মনে হতাশার ছাপ 
___________________________________



রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার একদিল তলা হাটের, যেখানে পান বিক্রির চরম দুরাবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

পান হাটে কৃষকের  মনে হতাশা সুর : দাম নেই, তাই ফেলে যাচ্ছে ফসল রাজশাহীর মোহনপুর, যা মিষ্টি পানের জন্য বিখ্যাত, সেখানকার কৃষকরা এখন পানের ন্যায্য দাম না পেয়ে তীব্র সংকটে পড়েছেন। আপনার তোলা ছবিতে সেই মর্মান্তিক দৃশ্যই ফুটে উঠেছে—পান চাষিরা তাদের যত্নের ফসল বিক্রি করতে না পেরে হাটে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি শুধু একদিল তলা হাটের নয়, এই অঞ্চলের অন্যান্য পান মোকাম যেমন মৌগাছি বাজারেও একই হতাশাজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সংকটের মূল কারণগুলো:

বাজারদরের পতন: বর্ষার শুরুতে বা বাম্পার ফলনের পরেও পানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। অনেক সময় ৬৪টি পানের এক বিড়া (আঁটি) মাত্র ৪-৫ টাকা বা তার চেয়েও কমে বিক্রি হচ্ছে।
খরচ বৃদ্ধি: পান চাষে শ্রমিক, সার ও কীটনাশকের খরচ বাড়লেও সে তুলনায় বাজারদর না পাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। অনেক কৃষক পান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরিও দিতে পারছেন না।

ঋণের বোঝা: পান চাষের জন্য অনেক কৃষক এনজিও বা স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। বর্তমানে পানের দাম না পাওয়ায় তারা কিস্তি শোধ করতে পারছেন না, যার ফলে তাদের ওপর মানসিক ও আর্থিক চাপ চরমে উঠেছে।

রোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: পানের বরজে কাণ্ডপচা, শিকড়পচা বা আগুন লাগার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং রোগের কারণেও চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ভবিষ্যতের আশঙ্কা

রাজশাহীর পান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং এর সঙ্গে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ব্যাপক লোকসান হওয়ায় অনেকেই পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই সংকট চলতে থাকলে পান চাষের মতো সম্ভাবনাময় গ্রামীণ অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পানের রোগ প্রতিরোধে গবেষণাকেন্দ্রের অভাব একটি বড় সমস্যা। দ্রুত যদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, যেমন: ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে মওকুফ করা, এবং সহজে পান গবেষণা বা রোগ প্রতিরোধের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করা—তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
ছবিটি এই অঞ্চলের পান চাষিদের গভীর হতাশা ও আর্থিক দুর্দশা।


মোঃ নাসির উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ